দিনাজপুরের হিলিতে এখনও বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন তেল। চাহিদা অনুযায়ী মিলছে না বোতলজাত তেল। দাম নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি ক্রেতাদের। এদিকে নতুন তেল না আসায় এবং আগে বাড়তি দামে তেল কেনায় বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
হিলি বাজারে তেল কিনতে আসা এরশাদ হোসেন বলেন, ‘আগে যে তেল ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন সেই তেলের দাম ১৮০ টাকা। আমরা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। কীভাবে এত দাম দিয়ে তেল কিনবো? সরকার যেন তাড়াতাড়ি তেলের দাম কমানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’
আরেক ক্রেতা বাবলুর রহমান বলেন, ‘সরকার নাকি ১৩৬ টাকা তেলের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। আমরা বাজারে গিয়ে সেই দামে তো তেল পাচ্ছি না। খোলা তেল কিনতে হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি হিসাবে। কথার সঙ্গে কাজের কোনও মিল নেই। তাহলে আমরা সাধারণ মানুষ কেমন করে চলবো? তেলের দাম কমলে আমাদের জন্য ভালো হয়।’
হিলি বাজারের খুচরা তেল বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘সরকার তেলের যে দাম ঘোষণা করেছে, আমরা এখনও সেই দামে কিনতে পারছি না। এ কারণে আমাদের আগে কেনা সেই দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। বর্তমানে নতুন করে তেলের সরবরাহ নেই। আগের তেল যার কাছে যা আছে সেগুলোই বিক্রি হচ্ছে।’
তেল বিক্রেতা জাহিদ হাসান ও আরিফ মোহাম্মদ বলেন, ‘সরকার ভ্যাট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও নতুন তেল এখনও আসেনি। আর যেসব তেল আছে সেগুলো আগের দামে কেনা। এ কারণে কম দামে বিক্রি করতে পারছি না। মোকামে মহাজনরা বলছেন তেলের দাম কমবে, তবে আরও দু-চার দিন সময় লাগবে। আর বোতলজাত তেল কোম্পানি থেকে দেওয়া বন্ধ রয়েছে। কোনও কোম্পানি বর্তমানে তেল সরবরাহ করছে না। বর্তমানে খোলা তেল ১৭৮ টাকা আর বোতলজাত তেল ১৬৮ টাকা লিটার বিক্রি হচ্ছে। যেগুলো আগে কেনা।’
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নূর-এ আলম বলেন, ‘যারা তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করেন আমরা সেসব দোকানে গিয়ে তাদের মজুত পরীক্ষা করেছি। কোনও ব্যবসায়ী যাতে বেশি দামে তেল বিক্রি না করে, সেটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে কেউ যদি কোনও ধরনের কারসাজি করতে চায়, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’