অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘বাংলা ট্রিবিউন’-এ গত ১০ মার্চ ‘কলিমউল্লাহর সাবেক পিএসের বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ’ শিরোনামে খবর প্রকাশ হয়। এ সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিযুক্ত কর্মকর্তা আমিনুর রহমান। প্রকাশিত সংবাদে তাকে নিয়ে যে সব তথ্য দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও কল্পনানির্ভর বলে দাবি করেছেন তিনি।
প্রতিবেদনে আমিনুরের বিরুদ্ধে বেরোবির সাবেক উপাচার্য কলিম উল্লাহর পিএস হিসেবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দুশ’র বেশি কমিটির আহ্বায়ক অথবা সদস্য সচিব হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে দালিলিক কাগজপত্রও রয়েছে। তবে তিনি শতাধিক কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন না বলে দাবি করেছেন।
অন্যদিকে তিনি নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য, জিনিসপত্র কেনাকাটা, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন বাণিজ্য, টেন্ডার আহ্বান সংক্রান্ত শতাধিক কমিটিতে থেকে লুটপাট করেছেন। এমন অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকার সুরক্ষা পরিষদের ৭৯০ পৃষ্ঠার শ্বেতপত্রেও উল্লেখ করা হয়েছে। শ্বেতপত্রের ২৯ ও ৫৭ দফায় তার উল্লেখ রয়েছে। উল্লেখিত এসব অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে ইউজিসির তদন্ত কমিটি।
এছাড়া অভিযুক্ত বেরোবি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননা মামলার (নম্বর সিআর ৬৯/২০) আসামি। মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে। তিনি ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন। এরপর ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই উপ-রেজিস্ট্রার (অ্যাকাডেমিক) হিসেবে পদোন্নতি পান। তবে চাকরি জীবনে কখনই তিনি অ্যাকাডেমিক শাখায় কাজ করেননি।
তিনি সাবেক ভিসি কলিমউল্লাহর দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে অনুপস্থিতির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অঘোষিত উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কর্মচারী নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক হন তিনি। অবৈধভাবে নিয়োগও দেন। অথচ কর্মচারী নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক হবেন উপ-উপাচার্য। আর সিন্ডিকেট কর্তৃক মনোনীত একজন সদস্য বা রেজিস্ট্রার হবেন সদস্য সচিব।
আমিনুর রহমান টেকনিক্যাল লোক না হয়েও আইন লঙ্ঘন করে ই-টেন্ডারের অ্যাডমিন হয়েছেন। তার কাছেই ছিল ই-জিবির পাসওয়ার্ড।
সাবেক পিএস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করিয়েছিলেন, এরও প্রমাণ রয়েছে। তৎকালীন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. নাজমুল হক নিজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে লিখিতভাবে তা জানিয়েছিলেন। তবে আমিনুর রহমান নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।
নিজ ভায়রা এ কে এম মাহমুদুল হককে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন আমিনুর। তবে ওই পদে আর কেউ যাতে প্রার্থী হতে না পারেন, সে জন্য নানান কৌশল অবলম্বন করেছিলেন তিনি। যা নিয়োগের কাগজপত্র পরীক্ষা করলেই প্রমাণ হবে। এছাড়া মাত্র দেড় বছরের মাথায় ভায়রাকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়েও তিনি অনৈতিক প্রভাব খাটান, যা ইউজিসির তদন্তে উঠে এসেছে।