ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে দুটি। এর মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটিসহ নানা কারণে একটি অ্যাম্বুলেন্স গত ৮ বছর অচল অবস্থায় পড়ে আছে। অপর অ্যাম্বুলেন্সটি সচল থাকলেও চালক মামলার কারণে বরখাস্ত রয়েছেন। এ অবস্থায় হাসপাতালের মালি বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্সটির চালক হিসেবে কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলায় ৫০ শয্যা বিশিষ্টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকলেও শারীরিক জটিল কোনও সমস্যার সমাধান সেখানে মেলে না। বেশিরভাগ রোগীকে জেলা সদরে এম.আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আবার অনেক রোগী বগুড়া মেডিক্যাল কলেজেও চিকিৎসা নেন। তবে জেলা সদর থেকে ঘোড়াঘাটের দূরত্ব প্রায় ১০২ কিলোমিটার। এতে জরুরি অবস্থায় চিকিৎসা সেবা পেতে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয় উপজেলাবাসীকে। অপরদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকায় জরুরি মুহূর্তে সেবা পান না বেশিরভাগ রোগী। এরমধ্যে হাসপাতালের চালক সংকট থাকায় বাগানের মালিকে দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালানোর বিষয়টিতেও ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য বলছে, হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ জন রোগী সেবা নিতে আসে। তারমধ্যে মহিলা রোগীর সংখ্যাই বেশি। অপরদিকে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ জন রোগীর অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন পড়ে। তবে একটিমাত্র অ্যাম্বুলেন্স থাকায় চাহিদা অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে সম্প্রতি সরকার জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে যুক্ত করেছে। তবে ঘোড়াঘাট উপজেলা থেকে টোল ফ্রি এই জরুরি সেবার মাধ্যমে অ্যাম্বুলেন্সকে কল করলে, এই সেবার আওতায় থাকা আম্বুলেন্স আসতে এক ঘণ্টারও অধিক সময় লাগে। কোনও কোনও সময় অপেক্ষা করতে হয় এক থেকে তিন ঘণ্টা সময় লেগে যায়। কারণ ঘোড়াঘাট উপজেলার কোনও প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স ৯৯৯ সার্ভিসে যুক্ত নেই।
ঘোড়াঘাট পৌর এলাকার নয়াপাড়া গ্রামের ভুক্তভোগী যুবক জোবায়ের হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গত বুধবার আমার এক নিকট আত্মীয় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এসময় আমি ৯৯৯-এ কল করি। তারা আমাকে জানায় ঘোড়াঘাট উপজেলার প্রাইভেট কোনও অ্যাম্বুলেন্স এই সেবার আওতায় নেই। পরে তারা আমাকে দিনাজপুর সদর উপজেলার অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিতে চায়। পরে ৯৯৯ এর ওই কর্মকর্তাকে আমি সদর উপজেলার দুরত্ব সম্পর্কে জানালে তিনি আমাকে পাশ্ববর্তী গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের সঙ্গে যোগযোগ করিয়ে দেন। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্স আমার গন্তব্যে আসতে দেড় ঘণ্টার মতো সময় নেয়। আবার ভাড়াও দিতে হয় দ্বিগুণের বেশি।
এসব বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তৌহিদ আনোয়ার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সচল থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্সের যান্ত্রিক কিছু ত্রুটির মেরামত এবং নতুন আরও একটি অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত করার জন্য সিভিল সার্জনকে জানিয়েছি। অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি এসব অ্যাম্বুলেন্স রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারি বরাদ্দের বিষয় রয়েছে সে বিষয়েও কথা হয়েছে।
চালক সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে তিনি আরও বলেন,আমাদের চালক সংকট রয়েছে। আগে আমাদের দু’জন চালক ছিলেন। তারমধ্যে একজন বদলি হয়েছেন। অপর একজন মামলা সংক্রান্ত সমস্যায় বরখাস্ত হয়ে আছেন। এ অবস্থায় হাসপাতালের মালি সচল অ্যাম্বুলেন্সের চালক হিসেবে কাজ করছেন।