দীর্ঘ দুই বছর পর দিনাজপুরের হিলি ইমিগ্রেশন দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাসপোর্টযাত্রীর যাতায়াত শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) থেকে হিলি ইমিগ্রেশন দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাত্রীদের যাতায়াত শুরু হয়।
করোনা সংক্রমণের কারণে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ যাত্রী গ্রহণ না করায় ২০২০ সালের ২৩ মার্চ থেকে এই পথ দিয়ে শুধুমাত্র ভারত থেকে যাত্রীরা দেশে ফিরতে পেরেছেন। দীর্ঘদিন পর এই পথ দিয়ে ভারতে যাতায়াত শুরু হওয়ায় খুশি পাসপোর্টযাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার হিলি ইমিগ্রেশন দিয়ে একজন ট্যুরিস্ট ভিসায় এবং অপরজন মেডিক্যাল ভিসায় ভারতে গেছেন। এর মধ্য দিয়ে আজ থেকে সব ধরনের ভিসাপ্রাপ্ত পাসপোর্টযাত্রীরা এই পথ দিয়ে আসা-যাওয়া করতে পারবেন।
ভারতে যাওয়া পাসপোর্টযাত্রী সাধনা শীল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমার বাসা জয়পুরহাটে। হিলি ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে যাতায়াত করা আমাদের জন্য সুবিধার। এতে খরচ যেমন কম হয় তেমনি ঘুরতে হয় না। এতদিন হিলি চেকপোস্ট বন্ধ ছিল। ফলে অনেক পথ ঘুরে বাড়তি টাকা খরচ করে আমাদের ভারতে যেতে হতো। দুই বছর পর আজ থেকে হিলি ইমিগ্রেশন খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে করে আমার যেমন সুবিধা হয়েছে তেমনি এই অঞ্চলের মানুষের উপকার হয়েছে।
মেডিক্যাল ভিসায় ভারতে যাওয়া ঠাকুরগাঁওয়ের রন্টু সাহা বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘ দুই বছর ধরে হিলি চেকপোস্ট বন্ধ থাকায় আমাদের খুব কষ্ট করে বিভিন্ন চেকপোস্ট ব্যবহার করে কিংবা বিমানযোগে ভারতে চিকিৎসার জন্য যেতে হয়েছিল। এতে করে অনেক হয়রানিসহ বাড়তি খরচের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। আজ থেকে হিলি চেকপোস্ট খুলে দেওয়ায় আমরা অনেক খুশি হয়েছি। আমাদের যে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল সেটি থেকে মুক্তি পেলাম।
হিলি চেকপোস্টের ওসি মো. বদিউজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, করোনার কারণে ২০২০ সালের ২৩ মার্চ থেকে হিলি দিয়ে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। গত বছরের ১৬ মে থেকে চেকপোস্টের কার্যক্রম শুরু হলেও ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ যাত্রী গ্রহণ না করায় বাংলাদেশ থেকে যাওয়া বন্ধ ছিল। তবে ভারত থেকে আসা যেত। সম্প্রতি হিলি পথ দিয়ে ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া শুরুর পর আজ থেকে হিলি দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রী পারাপার কার্যক্রম স্বাভাবিক হলো।
তিনি বলেন, এখন থেকে পাসপোর্টযাত্রীরা অনায়াসে এই পথ দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যেতে পারবেন এবং ভারত থেকে আসতে পারবেন। ট্যুরিস্ট, মেডিক্যাল, বিজনেস ভিসাসহ সব ধরনের ভিসাপ্রাপ্তরা ভারতে যেতে পারবেন। তবে সব পাসপোর্টযাত্রীর করোনার নেগেটিভ সনদ থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে ১২ বছরের ঊর্ধ্বে যাত্রীদের ক্ষেত্রে যারা দ্বিতীয় ডোজ ও বুস্টার ডোজ নিয়েছেন তাদের টিকা সনদ থাকলেই হবে। আর যারা টিকা নেননি সেক্ষেত্রে তাদের আরটিপিসিআরে করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ সনদ থাকতে হবে। ১২ বছরের নিচের পাসপোর্ট যাত্রীদের করোনা টিকার সনদ লাগবে না।