টানা আট দিন বন্ধের পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গম আমদানি শুরু হয়েছে। তবে এলসির বিপরীতে সম্পূর্ণ গম আসছে না বলে জানা গেছে। সিদ্ধান্ত না হওয়ায় গমবাহী এক হাজার ট্রাক ভারতে আটকা পড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সিআ্যন্ডএফ এজেন্ট। রবিবার (২৯ মে) বিকাল ৪টায় ভারত থেকে ৪০ টন গম নিয়ে একটি ট্রাক দেশে প্রবেশ করে। হিলির সায়রাম ইন্টারন্যাশনাল নামের প্রতিষ্ঠান এই গমের আমদানিকারক।
বন্দরের সিআ্যন্ডএফ এজেন্ট শেরেগুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৩ মে ভারত গম রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এতে বন্দর দিয়ে গম আসা বন্ধ হয়ে যায়। পরে আগের টেন্ডার হওয়া গম রফতানির সিদ্ধান্ত হয়। এতে বন্দর দিয়ে গম আসা অব্যাহত থাকে। কয়েক দফা বন্ধ ও চালুর মধ্য দিয়ে আগের টেন্ডারের গম রফতানি করে ভারত। তবে ১২ মে পর্যন্ত হওয়া এলসির বিপরীতে গম রফতানির আশ্বাস দিলেও তা পাঠায়নি ভারত। এতে বেশ সংখ্যক গম আটকে পড়ে। এ কারণে আমদানিকারকরা চরম বিপাকে পড়েন। দীর্ঘদিন ট্রাকে আটকা থাকায় পণ্যের মান নিয়েও দুশ্চিন্তা সৃষ্টি হয়। এদিকে আগে ডলারের দাম কম থাকলেও, দিন দিন তা বাড়তে থাকায় বিল ছাড়তে বাড়তি অর্থ গোনার দুশ্চিন্তায় পড়েন তারা।
তিনি আরও বলেন, এ অবস্থায় গত ২৩ মে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১২ তারিখ পর্যন্ত হওয়া এলসির বিপরীতে সুইফট কপি ওই দিনের মধ্যেই পৌঁছানোর সাপেক্ষে গম রফতানির কথা জানায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু যেসব এলসি ১২ মে এর মধ্যে হয়েছে কিন্তু সুইফট কপি ওই তারিখের পরে গেছে বা এলসির সময় বাড়ানো হয়েছে, সেগুলোর গম রফতানি না করার কথা জানানো হয়। কিন্তু এর পরেও নানা জটিলতা দেখিয়ে ভারতীয় কাস্টমস রফতানি বন্ধ রাখায় বন্দর দিয়ে এতদিন কোনও গম আমদানি হয়নি।
ভারতীয় সিআ্যন্ডএফ এজেন্ট অনিল সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ১৩ মে থেকে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক বন্দর দিয়ে গম রফতানি বন্ধ রয়েছে। এতে করে ভারত অভ্যন্তরে প্রায় এক হাজার গমবাহী ট্রাক আটকে পড়েছে। তবে আগের টেন্ডারের যেসব গম ছিল সেগুলো রফতানি অব্যাহত ছিল। এ অবস্থায় ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক কর্তৃপক্ষ ১২ মে এর মধ্যে হওয়া এলসির সুইফট ওই দিনের মধ্যে ভারতে পৌঁছানো সাপেক্ষে গম রফতানির নির্দেশনা দেয়। তবে এর বিপরীতে রফতানি হওয়া গমের পরিমাণ খুবই কম।
তিনি আরও বলেন, বাকি এলসিগুলোর বিষয়ে আদেশের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করতে রফতানিকারকরা দিল্লিতে যাবেন। বৈঠকে যা ফলাফল আসবে সেই অনুযায়ী বাকি এলসিগুলোর সুরাহা হবে বলে জানান তিনি।
স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বন্দর দিয়ে আগে বেশি পরিমাণে গম এলেও গত আট দিন ধরে গম আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। রবিবার বন্দর দিয়ে আবারও আমদানি শুরু হয়েছে। এর আগে, বন্দর দিয়ে সর্বশেষ গত ২০ মে দুটি ট্রাকে ৭৪টন গম এসেছিল।