আসন্ন ঈদুল আজহা ঘিরে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে জিরা আমদানি অব্যাহত রেখেছেন আমদানিকারকরা। এতে দেশের বাজারে পণ্যটির সরবরাহ বাড়ায় খুচরা বাজারে কেজিতে দাম কমেছে ১০ টাকা। সেইসঙ্গে ঈদে দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতা সংকটের কারণে জিরা বিক্রি করতে না পারায় অনেক আমদানিকারক বন্দর থেকে জিরা খালাস করছেন না।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ১২১টি ট্রাকে তিন হাজার ৩০৫ টন জিরা আমদানি হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে ১১৩টি ট্রাকে তিন হাজার ৯৭ টন আমদানি হয়েছে। মার্চ মাসে ৭২টি ট্রাকে এক হাজার ৯৬৫ টন আমদানি হয়েছে। এপ্রিল মাসে ৯০টি ট্রাকে দুই হাজার ৫১৭ টন আমদানি হয়েছে। মে মাসে ১১০টি ট্রাকে তিন হাজার ২৮ টন আমদানি হয়েছে। চলতি মাসে জিরা আমদানি অব্যাহত রয়েছে।
হিলি বাজারের মসলা বিক্রেতা জহুরুল ইসলাম বলেন, আগে সীমান্ত এলাকা দিয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে টোকাইরা জিরা আনতো। আমরা তাদের কাছ থেকে কিনে সেগুলো বিক্রি করতাম। এ জন্য দাম কিছুটা কম ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেটি বন্ধ রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে জিরা আমদানি হওয়ায় সেখান থেকে কিনে বাজারে বিক্রি করছি। সরবরাহ বাড়ায় কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি জিরা ৩৮৫ থেকে ৩৯০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আগে ৪০০ টাকা ছিল।
হিলি স্থলবন্দরের জিরা আমদানিকারক সারোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগে চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য বন্দর দিয়ে জিরা আমদানি হতো। বর্তমানে ভারত থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে জিরা আমদানি হচ্ছে। আসন্ন ঈদুল আজহা ঘিরে জিরার চাহিদা থাকায় আমদানি বাড়িয়েছেন আমদানিকারকরা। তবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে জিরার চাহিদা কমেছে। এ জন্য অনেক আমদানিকারক জিরা খালাস না করে বন্দরের শেডেই রেখেছেন। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দাম কমেছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রতি টন জিরা প্রকারভেদে এক হাজার ৭০০ ডলার থেকে এক হাজার ৮৫০ ডলারে আমদানি হচ্ছে। যা কাস্টমসে এক হাজার ৮৫০ ডলার মূল্যে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। এতে প্রতি টন জিরা আমদানিতে শুল্কবাবদ ৯৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়। বর্তমানে জিরার পর্যাপ্ত আমদানি রয়েছে। আসন্ন ঈদে জিরার দাম বাড়বে না।’
হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা এসএম নুরুল আলম খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বন্দর দিয়ে অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি বেশ কিছুদিন ধরেই জিরা আমদানি হচ্ছে। আসন্ন ঈদুল আজহা ঘিরে সেই ধারা কিছুটা বেড়ে আমদানি অব্যাহত রয়েছে। এতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার রাজস্ব আহরণ কিছুটা সহজ হচ্ছে। জিরা আমদানিতে সরকার নির্ধারিত ৫৮ শতাংশ শুল্ক আরোপ রয়েছে। আমদানিকৃত প্রতি টন জিরাতে ৯৫ হাজার টাকা শুল্কবাবদ আদায় করে ছাড় দেওয়া হচ্ছে।’
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে জিরা আমদানি অব্যাহত রয়েছে। এতে বন্দর কর্তৃপক্ষের দৈনন্দিন আয় যেমন বেড়েছে, তেমনি বন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের আয় আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে বন্দর থেকে ব্যবসায়ীদের জিরা খালাস নেওয়ার কার্যক্রম আগের চেয়ে অনেকটা কমেছে। এতে বন্দরের ভেতরের শেডগুলোতে কিছুদিন ধরে জিরা আটকে রয়েছে। বর্তমানে বন্দরের শেডগুলোতে ৫৩০ মেট্রিক টন জিরা হল্টেজ অবস্থায় রয়েছে।