মিঠাপুকুর উপজেলার হামিদপুর গ্রামে পল্লী চিকিৎসক বাবলু মিয়াকে কুপিয়ে হত্যা, নগদ অর্থ ও মালামাল লুটের মামলায় আসামি শামিম ওরফে বন্দে শামিমকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১ আগস্ট) বিকালে রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক তারিক হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাত ১টার দিকে হামিদপুর বাজারের দোকান বন্ধ করে পল্লী চিকিৎসক বাবলু বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় একদল সশস্ত্র ডাকাত অস্ত্রের মুখে আটক করে তার থেকে নগদ অর্থ ও মালামাল লুট করে। বাধা দিলে চিকিৎসক বাবলু মিয়াকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করে ডাকাতরা। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন বাবলু মিয়ার মৃত্যু হয়।
নিহত পল্লী চিকিৎসক বাবলু মিয়ার বড়ভাই আমিনুর রহমান বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় মামলা দায়ের করেন। বাদী মামলায় কোনও আসামির নাম উল্লেখ করেননি। পরবর্তীকালে পুলিশ তদন্ত করতে গিয়ে আসামি শামিম ওরফে বন্দে শামিমসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে শামিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়। পুলিশ তদন্ত শেষে ৯ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মামলায় ১২ জনের সাক্ষী নেন বিচারক। পরে শামিমকে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় দেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মামলার অপর ৮ আসামিকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।
সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী অতিরিক্ত পিপি নয়নুর রহমান টফি বলেন, আসামি শামিম পল্লী চিকিৎসক বাবলু মিয়াকে হত্যা ও মালামাল লুট করার কথা স্বীকার করায় বিজ্ঞ বিচারক তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। রায়ে সরকার পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করছে। অন্যদিকে ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
আসামী শামিমের পক্ষের আইনজীবী বায়েজিদ ওসমানী বলেন, আমার মক্কেল ন্যায্য বিচার পাননি। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানান তিনি।