প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অ‌নিয়‌মের অভিযোগ সহকারীদের

কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিতেন্দ্রনাথ রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক নিয়োগে বাণিজ্য এবং মনগড়া ম্যানেজিং কমিটি গঠনসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্টের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগ দিয়েছেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম খান। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সহকারী প্রধান শিক্ষকের দেওয়া অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সাল থেকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন জিতেন্দ্রনাথ রায়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, শিক্ষক নিয়োগে বাণিজ্য, ৩০ বছর ধরে একক সিদ্ধান্তে ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও স্বাক্ষর জালসহ নানা অনিয়ম করায় ভেঙে পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। 

দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করার সুযোগে তিনি নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। শুধুমাত্র নিয়োগ বাণিজ্য করে বিদ্যালয় উন্নয়নের অজুহাতে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। নিয়োগ বাণিজ্য ও স্কুল ফান্ডের অর্থ আত্মসাতের জন্য প্রতিবারই মনগড়া ম্যানেজিং কমিটি গঠন করেন বলে অভিযোগ করছেন ওই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ সহকারী শিক্ষকরা।

অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, নিয়মনীতি না মেনে ২০১৫ সালে চার জন শিক্ষককে গোপনে নিয়োগ দেন প্রধান শিক্ষক জিতেন্দ্র নাথ। ‘বিধিসম্মত’ না হওয়ায় নিয়োগকৃত শিক্ষকরা এখনও তাদের মাসিক বেতন-ভাতার (এমপিও) অনুমোদন পাননি। বেতনবিহীন ওই শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এর মধ্যে আবারও নিয়মবহির্ভূতভাবে একটি পকেট ম্যানেজিং কমিটি গঠন করেছেন প্রধান শিক্ষক। এমন নানা অভিযোগ এনে তার প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সহকারী প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম। 

পাঁচগাছী উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ক সহকারী শিক্ষক এরশাদুল হক বলেন, ‘২০১৫ সালে চাকরিতে যোগদান করলেও এখন পর্যন্ত বেতন হচ্ছে না। ডিজি অফিস থেকে বারবার কাগজপত্র ফিরিয়ে দিচ্ছে। কি জটিলতা বুঝতে পাচ্ছি না।’

অভিযোগকারী পাঁচগাছী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙে পড়ার অবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত আশা করছি।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিতেন্দ্রনাথ রায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ‘আমি ৩২ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছি। বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য শিক্ষক নিয়োগে টাকা নিয়েছি। ব্যক্তিগত কাজের জন্য টাকা নিইনি।’

ম্যানেজিং কমিটি গঠনের অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘৩০ বছর ধরে আমি বিধি অনুসরণ করে কমিটি গঠন করে আসছি। এ বছর সহকারী প্রধান শিক্ষক সভাপতির জন্য জুনিয়র এক বক্তির নাম প্রস্তাব করেছেন। আমি তাকে সভাপতি না করে স্কুলের উন্নয়নের স্বার্থে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে সভাপতি করেছি। এটাই আমার অপরাধ। সেজন্য তিনি (সহকারী প্রধান শিক্ষক) অসন্তুষ্ট হয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জহুরুল হক বলেন, ‘স্কুলটির ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে তদন্ত কাজ শুরু করেছেন। প্রতিবেদন পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’