উজানের ঢল আর ভারী বর্ষণে কুড়িগ্রামে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করেছে। অব্যাহত পানি বৃদ্ধিতে এ নদী অববাহিকার চরাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে বেশ কিছু ফসলি জমি ডুবতে শুরু করেছে। একইসঙ্গে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের বাড়িতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। পাশাপাশি উলিপুর উপজেলার বজরা এলাকায় তিস্তার অব্যাহত ভাঙনে বাস্তুহারা হচ্ছে একের পর এক পরিবার।
আবাহাওয়ার পূর্বাভাসে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাতে পাউবো জানায়, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন ভারতের কতিপয় স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এই সময়ে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের পানি সমতলে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।
শুক্রবার (০২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময় ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রের পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এসব নদনদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের বাসিন্দা সুকুমার, বানেশ্বর ও মিলন জানান, শুক্রবার সকালে তিস্তার পানি হু হু করে বাড়তে শুরু করে। এতে করে ওই ইউনিয়নের চরাঞ্চলের আবাদি জমি ডুবতে শুরু করেছে। কিছু বাড়িতেও পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
এদিকে, উলিপুরের বজরা ইউনিয়নে তিস্তার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। গত এক সপ্তাহে এই ইউনিয়নের তিন গ্রামের অন্তত অর্ধশতাধিক পরিবার বাস্তুহারা হয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে স্থানীয় কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মসজিদ-মন্দির, পাকা সড়ক ও কয়েকশ একর আবাদি জমি। প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড শুধুমাত্র ৫০০ মিটার এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে জিওব্যাগ ফেলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত এক মাসে দুই শতাধিক পরিবার ভাঙনে নিঃস্ব হলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন কিংবা পাউবো কেউ গুরুত্ব দেয়নি। ফলে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো।
শুক্রবার বিকালে ভাঙন প্রতিরোধে চলমান কাজ পরিদর্শনে উলিপুরের বজরা ইউনিয়নে যান পাউবোর কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন। ঘটনাস্থলে থেকে তিনি বলেন, ‘তিন কিলোমিটারজুড়ে তিস্তার তীব্র ভাঙন চলছে। এখনও বাড়িঘর হারাচ্ছে মানুষ। আমরা শুধুমাত্র ৫০০ মিটার এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধমূলক কাজের অনুমতি পেয়েছি। সেখানে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে।’
তিস্তার পানি বৃদ্ধি নিয়ে জানতে চাইলে এই নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘তিস্তার পানি আরও বাড়তে পারে। তবে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করলেও কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করবে।’