‘যুবকের ঘুষিতে’ বৃদ্ধের মৃত্যু, খবর পেয়ে মারা গেলেন বোনও

কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নে গাছের ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিবাদে এক যুবকের ঘুষিতে আবুল কালাম আজাদ (৭৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বড় ভাইয়ের এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবর শুনে ছোট বোন ছকিনা খাতুনও (৭২) মারা গেছেন।

বুধবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে সদরের কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেদওয়ানুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত যুবকের নাম আবু জুবায়ের (৩০)। সে রায়পুর গ্রামের দুলাল হোসেনের ছেলে, পেশায় কাঠ ব্যবসায়ী।

স্থানীয়রা জানায়, বুধবার সকালে নিহত আবুল কালাম আজাদের ছেলে ও ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ আনিছুর তার প্রতিবেশী আবুল কাশেমের একটি আম গাছের ডাল কাটেন। কিন্তু গাছটি নিজেদের দাবি করে এ নিয়ে জুবায়ের ও তার বাবা দুলাল হোসেন আনিছুরদের সঙ্গে বিবাদে জড়ান। স্থানীয়রা এ নিয়ে উভয়পক্ষকে শান্ত করে পরবর্তী সময়ে বসে মিমাংসার কথা জানান। কিন্তু বুধবার রাত ৯টার দিকে জুবায়ের ও তারা বাবা দুলাল হোসেন দলবল নিয়ে আনিছুরদের বাড়িতে গিয়ে তাদের সঙ্গে আবারও বিবাদে জড়ান। 

এসময় জুবায়ের বৃদ্ধ আবুল কালাম আজাদের বুকে কিল-ঘুষি মারলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আবুল কালামের মৃত্যুর খবর শুনে তার ছোট বোন ছকিনা খাতুন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকেও কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর জুবায়ের ও তার বাবা দুলাল হোসেন দলবল নিয়ে পালিয়ে যান।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেদওয়ানুল হক বলেন, ‘সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে জুবায়ের ও তার বাবা দুলাল হোসেন দলবল নিয়ে হামলার করলে জুবায়েরের কিলঘুষিতে আবুল কালাম নামে এক বৃদ্ধ মারা যান বলে জেনেছি। এখবর শুনে তার ছোট বোনও মারা যান। অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।’

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান মো. শাহরিয়ার বলেন, ‘সংঘটিত ঘটনায় মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন। অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’