রংপুরে ট্রাফিক পুলিশের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক যুবককে উপর্যুপুরি নাকে-মুখে ঘুষি মেরে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। সেই যুবকের অভিযোগ, তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ও বীরমুক্তিযোদ্ধার ছেলে। তার পরিচয় পাওয়ার পরও ট্রাফিক পুলিশের সেই সদস্য তাকে মারধর করেছেন।
বুধবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রংপুর নগরীর ভাঙ্গা মসজিদ সংলগ্ন আজাদ হোমিও হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, বিষয়টি মিমাংসার জন্য পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে সমঝোতার চেষ্টাও করা হয়েছে। এমনকি বৈঠক শেষে পুলিশের পক্ষ থেকে বলাও হয়েছে, বিষয়টি মিমাংসা হয়ে গেছে। তবে আহত এই যুবক তা অস্বীকার করে ওই দুই ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তার বিচার দাবি করেছেন।
হাসান আল মামুন নামের ওই যুবকের অভিযোগ, তাকে অন্যায়ভাবে মারধর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে দায়ী দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিচারও দাবি করেন তিনি।
জানা গেছে, রাত থেকে ১০টা পর্যন্ত আহত মামুন ও তার বাবা বীরমুক্তিযোদ্ধা মনসুর আহাম্মেদকে নিয়ে মেট্রোপলিটান পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে দায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা মৌখিক ভাবে জানান। তবে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে কী সমঝোতা বা আলাপ হলো তা জানতে কোন পুলিশ কর্মকর্তাই রাজি হননি।
পরে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে রংপুর মেট্রোপলিটান পুলিশের ডিসি ট্রাফিক মেনহাজুল আলমের সাথে তার সরকারি মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ভুল বোঝাবুঝির কারণে কথা কাটাকাটি হয়েছে।’ মারধরের ব্যাপারে জানতে চাইলে এ প্রতিনিধিকে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি দেখে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।’
তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাত সাড়ে ১১টা ওই দুই ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’ কোনও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কিনা এ ব্যাপারে পুলিশের কোনও কর্মকর্তাই কথা বলতে রাজি হননি।