কুয়াশার চাদরে ঢাকা চারদিক। কুড়িগ্রাম সদরের সারডোব এলাকা থেকে নৌকাযোগে ধরলা নদী পার হচ্ছিলেন নুর আহমেদ। এ সময় তিনি বলেন, ‘ভাই কুয়াশার কারণে সামনে কিছুই দেখা যায় না। কনকনে ঠান্ডা।’
বুধবার (১১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এসব কথা জানান নুর আহমেদ। একই দিন দুপুরে সদরের ঘোগাদহ ইউনিয়নের স্কুলশিক্ষক মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আজ প্রচণ্ড ঠান্ডা। কুয়াশায় কিছু দেখা যায় না। আর নদীর তীরে হিমেল বাতাসে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে।’
মামুনুর রশীদ আরও বলেন, ‘যাদের বাইরে বের না হলে জীবিকা থেমে যায় শুধু তারাই বাইরে বের হচ্ছেন। এটা নিতান্তই বাধ্য হয়ে।’
বুধবার জেলার বিভিন্ন স্থানের অবস্থা ছিল এমনই। সকাল গড়িয়ে দুপুর ১২টার পর দেখা মিলেছে সূর্যের। তবে স্বস্তি টেকেনি বেশিক্ষণ। সূর্য পশ্চিমে হেলে যাওয়ার পরপরই আবারও কনকনে ঠান্ডায় জনদুর্ভোগ বেড়ে যায়। আর সন্ধ্যা নামতেই মানুষজন ঘরমুখী হন।
রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্যমতে, বুধবার সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাতের তাপমাত্রা হ্রাস পেলেও দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বুধবার হঠাৎ বিরূপ আবহাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকসহ চরাঞ্চলের মানুষজন। বোরো মৌসুম শুরু হওয়ায় প্রচণ্ড শীতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের কৃষক সুরুজ্জামান বলেন, ‘জমিতে বোরো চাষের সময় হয়েছে। কিন্তু কনকনে ঠান্ডার কারণে মাঠে যেতে পারছি না।’
একই উপজেলার কৃষিশ্রমিক আবদার হোসেন বলেন, ‘ঠান্ডাত খুব কষ্ট হয়। ঠান্ডাত সকালে যে কাজে বের হমো সে উপায়ও থাকে না। ঠান্ডা না যাওয়া পর্যন্ত খুব কষ্টে আছি।’
জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা জানায়, চলতি শীত মৌসুমে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রথম পর্যায়ে ৩৮ হাজার কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা জেলার ৯ উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে আরও ১৫ হাজার কম্বলের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সেখান থেকে বিতরণের জন্য ১০ হাজার কম্বল উপ-বরাদ্দের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।