৮ মাসের মধ্যে হিলিতে সর্বনিম্ন দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ

চাহিদার তুলনায় আমদানি বাড়ায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে দুদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা কমেছে। আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ প্রকারভেদে ১৮ থেকে ২২ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ১৫ থেকে ১৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে পেঁয়াজের দাম।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে ভারত থেকে নাসিক ও ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। বন্দরে নাসিক জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৭ টাকা কেজি দরে যা আহে ২২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। এ ছাড়া ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ ১৫ থেকে ১৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে যা আগে ১৮ টাকা ছিল। এ ছাড়া হিলি বাজারে খুচরাতেও আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কমেছে। বর্তমানে ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে যা আগে ২৪/২৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। এ ছাড়া দেশীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২২ টাকা কেজি দরে যা আগে ২৬ থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল।

হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকার আইয়ুব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় ও দাম কমার কারণে মোকামে আমদানি করা পেঁয়াজের চাহিদা কমে গিয়েছিল। সম্প্রতি ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কমতে কমতে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। দাম কমার কারণে মোকামে আবারও আমদানি করা পেঁয়াজের চাহিদা বেড়েছে। দাম কমার কারণে আমাদের পুঁজি কম লাগছে, এ ছাড়া কিনতে যেমন সুবিধা হচ্ছে মোকামে পাঠাতেও সুবিধা হচ্ছে।

হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা ফিরোজ হোসেন বলেন, সব পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হলেও এর মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তির খবর পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহে যে পেঁয়াজ আমরা ২৫ টাকার ওপরে কিনতে হয়েছিল সেই পেঁয়াজ এখন কমে ১৮ থেকে ২০ টাকায় কিনতে পারছি।

বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা শাকিল খান বলেন, কিছুদিন আগে বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের সরববাহ ব্যাপক ছিল। দাম কমের কারণে ক্রেতারা ভারতীয় পেঁয়াজ না এনে দেশীয় পেঁয়াজের দিকেই ঝুঁকছিল। এতে সে মময়ে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি অনেকটা কমে গিয়েছিল। বর্তমানে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণ বাড়ায় বাজারে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়েছে। এতে সরবরাহ বাড়ার কারণে দাম খানিকটা কমতে শুরু করেছে। দেশীয় পেঁয়াজের তুলনায় আমদানি করা পেঁয়াজ ২/৩ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক হারুন উর রশীদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দেশের বাজারে পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রেখেছেন আমদানিকারকরা। সেই সাথে রমজানকে ঘিরে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক ব্যাংকগুলো এলসি দেওয়ায় বন্দরের ছোট বড় সব ধরনের আমদানিকারক পেঁয়াজের এলসি খুলছেন। সেই এলসির বিপরীতে পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে এতে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি আগের তুলনায় বেড়েছে। পক্ষান্তরে দেশের বাজারে এখনও দেশীয় পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। দেশের মানুষের পেঁয়াজের চাহিদার বেশিরভাগ এখন পূরণ হচ্ছে দেশীয় পেঁয়াজ দিয়ে। সেই সঙ্গে দেশীয় পেঁয়াজের দাম কম থাকায় আমদানি করা পেঁয়াজের চাহিদা কম। এতে চাহিদার তুলনায় আমদানি বাড়ায় পেঁয়াজের দাম নিম্নমুখী। দাম কমতে কমতে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তবে পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণ আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। আগে বন্দর দিয়ে ৪/৫ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৮/১০ ট্রাক করে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে।