বদলি হওয়ার দিনে রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. শামীম আহমেদের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। করোনাকালীন উপজেলা পর্যায়ে করোনার টিকা প্রদানকারী স্বাস্থ্যকর্মীদের বরাদ্দকৃত টাকা না দেওয়ায় মঙ্গলবার (০৭ মার্চ) দুপুরে বিক্ষোভ করেন তারা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সদ্য বদলি হওয়া সিভিল সার্জন ডা. শামীম আহমেদ গোপনে রংপুর ত্যাগ করছিলেন। খবর পেয়ে শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী তার বাসভবন ঘেরাও করে প্রধান ফটকে তালা দিয়ে অবরুদ্ধ করেন। তারা পাওনা টাকা পরিশোধ না করলে তাকে যেতে না দেওয়ার ঘোষণা দেন।
স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ, করোনাকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে করোনার টিকা দিয়েছেন। সেজন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ২৫ লাখ টাকা সিভিল সার্জন উত্তোলন করে আত্মসাৎ করার জন্য তার কাছে রেখেছেন। ইতোমধ্যে তাকে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন হিসেবে বদলি করা হয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীদের টাকা না দিয়ে গোপনে মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর ছাড়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে তার বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
এ ব্যাপারে মিঠাপুকুর উপজেলার স্বাস্থ্যকর্মী আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, ‘দুই বছর ধরে করোনার টিকা দেওয়ার কাজ করেছি। আমাদের জন্য ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই টাকা অনেক আগেই উত্তোলন করে সিভিল সার্জন ডা. শামীম নিজের কাছে রেখে দেন। বারবার বলার পরও সেই টাকা দেননি। সম্প্রতি তাকে বদলি করা হয়। কিন্তু আমাদের টাকা না দিয়ে গোপনে মঙ্গলবার রংপুর ছেড়ে চলে যাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে দুপুরে তার বাসভবনে তালা দিয়ে অবরুদ্ধ করা হয়। সেইসঙ্গে বিক্ষোভ শুরু হয়। দুই দিনের মধ্যে টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলে বিকালে তার বাসভবনের তালা খুলে দেওয়া হয়। আমরা এই দুই দিনের মধ্যে টাকা চাই।’
বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের রংপুর বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান অপু বলেন, ‘আমাদের ঘাম ঝরানো ২৫ লাখ টাকা না দিয়ে রংপুর থেকে পালিয়ে যাবেন, এটা হতে পারে না। টাকা দিয়েই যেতে হবে।’
সিভিল সার্জন ডা. শামীম আহমেদ টাকা উত্তোলনের কথা স্বীকার করলেও ওই টাকা ক্যাশিয়ারের কাছে আছে বলে দাবি করেন। তবে ক্যাশিয়ার পলাশ বলেন, টাকা সিভিল সার্জনের কাছে। আমার কাছে কোনও টাকা নেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদ্য যোগ দেওয়া রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, ‘করোনার টিকা দেওয়া সংক্রান্ত কোনও টাকা এখানে নেই। ওই টাকা অনেক আগেই উত্তোলন করা হয়েছে। ফলে এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারাই ব্যবস্থা নেবে।’