ঈদের দিন ইবাদতেই কাটে গোড়-এ শহীদ ময়দানের ইমামের

দিনাজপুরের গোড়-এ শহীদ বড় ময়দানে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত ঈদের জামাতে ইমামতি করেন ইমাম শামসুল হক কাসেমী। এই মিনার নির্মাণের আগে থেকে অর্থ্যাৎ দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে তিনি এই মাঠেই ইমামতি করে আসছেন। বছরের বাকি সময় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতাল জামে মসজিদে ইমামতি করেন তিনি।

শনিবার (২২ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় এই মাঠে। এর আগে সকাল পৌনে ৭টায় যাওয়া হয় তার বাড়িতে। তার স্বজনরা জানান, তিনি ভোরে নামাজ আদায় শেষে বর্তমানে বিশ্রাম নিচ্ছেন। সকাল ৭টায় বিশ্রাম শেষে গোসল করতে যান তিনি। এরপর ওজু করেন নিয়মানুযায়ী। ওজু শেষ করে বসেন কোরআন তেলাওয়াতে। পাশেই ছেলে উলিউল্লাহ্ বাবার জন্য সকালের নাস্তার আয়োজন করছেন। কোরআন তেলাওয়াত শেষ হতেই ছেলে নাস্তা এনে দিলেন। আয়োজনে ছিল খেজুর, জল ও সেমাই।

নাস্তা শেষে ছোট নাতিকে নিয়ে একটু আদর করে ঈদের জামাতে অংশের জন্য প্রস্তুত হতে চলে গেলেন নিজের ঘরে। কিছুক্ষণ বাদেই বের হলেন নির্ধারিত পোশাক পরিধান করে। এরই ফাঁকে ইমামের দুই ছেলে, নাতিরা প্রস্তুত হন জামাতে যাওয়ার জন্য। যথারীতি সবাইকে নিয়ে বের হলেন নিজের প্রাইভেটকারে করে। মাঠে এসে পৌঁছালেন।

মুসল্লিদের সঙ্গে কোলাকুলি করছেন গোড়-এ শহীদ ময়দানের ইমাম 

সকাল সোয়া ৮টার দিকে মাঠে দেখা যায় তিনি জামাতে অংশ নেওয়া নামাজিদের কাতার সোজা করতে আহ্বান জানাচ্ছেন। পরে শিখিয়ে দিলেন কাতারে দাঁড়িয়ে থেকে নামাজ আদায়ের নিয়ম। এরপর একে একে সব নামাজিকে বসতে বলে দাঁড়িয়ে থাকতে বললেন মোকাব্বিরকে। সব মোকাব্বিরকে নির্দেশনা দিয়ে শুরু করলেন ঈদের নামাজ আদায়ের কার্যক্রম। নামাজ শেষে চলে গেলেন ঈদগাহ্ মিনারের মেহরাবে। সেখানে বসে সবার উদ্দেশে দোয়াপাঠ করলেন। সব নামাজিরাও একই সঙ্গে দোয়াপাঠ করেন।

দোয়াপাঠ শেষে কুশল বিনিময় করলেন শুভাকাঙ্খীদের সঙ্গে। পরে প্রথমে জেলা প্রশাসকের বাসভবনে, তারপরে যান সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিমের বাসভবনে। এরপর ফেরেন বাড়িতে।

ঈদের জামাতে ইমামতি করছেন শামসুল হক কাসেমী

কথা হলে ইমাম শামসুল হক কাসেমী বলেন, আজ অনেক মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করলেন। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে এই নামাজের ইমামতি করে আসছি। এই মিনার নির্মাণ হওয়ার আগে থেকে করতাম। সত্যি খুবই ভালো লাগে। নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে দোয়া হলো। অনেক ভালো লাগছে। আল্লাহ্ তৌফিক দান করুক সবাইকে।

তিনি জানান, প্রতি বছর প্রায় একইভাবেই ঈদের দিন কাটে তার। বিকালে নাতিকে নিয়ে বের হন বেড়াতে। কোথাও দাওয়াত থাকলে সেখানেও যান পরিবারসহ। গত ২৭ বছর ধরেই তিনি এভাবে ঈদের দিনগুলো কাটান। এক প্রকার কর্মব্যস্ততা ও আল্লাহর ইবাদতে কাটে তার পুরো দিন।