কন্যাসন্তানকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া এক নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়েছে পুলিশ। শনিবার (২০ মে) বিকালে সদর থানা পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে। সদর থানার ওসি খান মো. শাহরিয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ভুক্তভোগী ওই নারীর বাড়ি পৌর শহরের হাসপাতাল পাড়া এলাকায়। তিনি এক যুবকের প্রেমের ফাঁদে পড়ে প্রতারণার শিকার হয়ে মানসিক অস্থিরতা থেকে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ।
অভিযুক্ত যুবকসহ নিজের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে ওই নারী লিখেছেন, 'আমার মৃত্যুর জন্য এই ছেলে দায়ী৷ আমি আমার মেয়েকে আগে হত্যা করবো, তারপরে নিজে বিষ খেয়ে মরবো। এই ছেলে আমার কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমাকে বিয়ে করেছে, অথচ এখন সংসার করতে চায় না। এই ছেলের নাম সাজ্জাদুর রহমান। এখন সে পলাতক। আমার সোনাদানা, এমনকি মায়ের সোনাদানা পর্যন্ত আত্মসাৎ করেছে। আজকেই আত্মহত্যা করবো।'
পুলিশ জানায়, ওই যুবকের প্রেমের ফাঁদে প্রতারিত হয়ে ওই নারী আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন। বিষয়টি ফেসবুকে দেখার পর তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে।
থানায় অবস্থানকালে ওই নারী জানান, তার বিয়ে হয়েছিল। এক কন্যাসন্তান রয়েছে। বিচ্ছেদের পর সদরের নীলারাম এলাকার সাজ্জাদুর রহমান সাজুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। পরে সাজুকে বিয়েও করেছেন। কিছুদিন পর জানতে পারেন সাজুর ঘরে স্ত্রী-সন্তান আছে। এর মধ্যে সাজু তার কাছ থেকে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেয়। প্রতারণার বিষয়টি জানাজানি হলে সাজু তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
ওই নারী দাবি করেন, সাজু প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ফলে হতাশা এবং মানসিক অস্থিরতা থেকে সন্তান ও নিজেকে শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন। এ নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন।
ওসি খান মো. শাহারিয়ার বলেন, থানায় নেওয়ার পর ওই নারীকে কাউন্সেলিং করা হয়েছে। পরে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার প্রতিনিধির মাধ্যমে শনিবার রাতে তাকে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।