‘দুর্বৃত্তের’ আগুনে পুড়লো ব্যবসায়ীদের ঈদ আনন্দ

কুড়িগ্রামের উলিপুরের দলদলিয়া ইউনিয়নের একটি বাজারে আগুনে পুড়ে গেছে ব্যবসায়ীদের নয়টি দোকান ঘর। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের। শুক্রবার মধ্যরাতে (২৩ জুন) ইউনিয়নের স্লুইচগেট বাজারে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ব্যবসায়ীদের দাবি, দুই ‘দুর্বৃত্তের’ দেওয়া আগুনে ঈদের আগেই তাদের সব আনন্দ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তারা সর্বস্ব হারিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, শুক্রবার রাতে দুইজন অজ্ঞাত ব্যক্তি বাজারের একটি দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ সময় বাজারের নিরাপত্তাপ্রহরী বাবলু মিয়া ও শাহ্ আলম আগুন লাগানোর ঘটনা দেখতে পেয়ে ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়লে বাজারের নয়টি দোকান ও মালালাল পুড়ে যায়।  খবর পেয়ে উলিপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।  

নিরাপত্তাপ্রহরী বাবলু মিয়া ও শাহ্ আলম জানান, গভীর রাতে বাজারের একটি দোকানের পেছনে শব্দ পেয়ে তারা এগিয়ে গেলে দোকানে আগুন লাগাতে দেখেন। তারা ধাওয়া করলে দুইজন অজ্ঞাত ব্যক্তি দৌড়ে পালিয়ে যায়। তবে তাদের চিনতে পারেননি। এর মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘আমাদের এই বাজারে কাপড়ের দোকান, রশি, লোহা, গালামাল, চায়ের দোকান ও কম্পিউটারের ব্যবসা ছিল। আমরা সবাই ঈদকে সামনে রেখে ঋণ করে অতিরিক্ত মালামাল তুলেছিলাম। কিন্তু দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে আমাদের সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে আমাদের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। পরিবার নিয়ে আমাদের পথে বসতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগুন লাগার আগে থেকেই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। তাই শর্ট সার্কিটের সুযোগ নেই। যারা এই আগুন দিয়েছে তারা পরিকল্পিতভাবে এটা করেছে। আমরা চাই প্রশাসন এদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনুক।’
 
উলিপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার আব্বাস আলী বলেন, প্রায় ২ ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সেখানে নয়টি দোকান পুড়ে যায়।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে তিন রকমের তথ্য এসেছে। বাজারের নৈশপ্রহরী বলছেন, অজ্ঞাত দুই দুর্বৃত্ত আগুন লাগিয়েছেন। এছাড়া চায়ের দোকান থেকে কিংবা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেও আগুনের উৎপত্তি হতে পারে। তদন্তের আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’

উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আমরা গিয়েছিলাম। ব্যবসায়ী ও নৈশ প্রহরীদের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। অগ্নিকাণ্ডে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।’