নীলফামারীতে চাহিদার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ কোরবানিযোগ্য পশু আছে। এরই মধ্যে বাজার জমে উঠেছে। এবার পশুর দাম নাগালের মধ্যে আছে বলে জানালেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা শহরের কালিতলা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল মাঠে কোরবানির পশুর হাট ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। এই হাটে দেশি গরু বেশি। ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় দেখা গেছে। এ বছর সীমান্তজুড়ে সতর্কতার কারণে ভারতীয় গরু আসেনি। এ জন্য দেশি গরু বেশি। তবে দাম নাগালের মধ্যে আছে। এ ছাড়া স্থানীয় হাটগুলোতে ছাগল, ভেড়া ও অন্যান্য পশুর দামও কম আছে।
পৌর শহরের নিউবাবুপাড়ার বাসিন্দা রশিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমদিকে গরুর দাম বেশি থাকলেও এখন তা নাগালের মধ্যে। এবার দেশি গরু বেশি। তবে দাম গতবারের চেয়ে বেশি হওয়ায় খামারি ও গৃহস্থরা লাভবান হবেন।’
পৌর শহরের গরু বিক্রেতা মহুবার রহমান বলেন, ‘আমার চারটি পোষা গরু হাটে এনেছি। একেকটির দাম ৬৫-৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্রেতারা বলছেন। তবে গতবারের চেয়ে গরুর দাম বেশি। ভারতীয় গরু না আসায় ন্যায্যমূল্য পাচ্ছি আমরা।’
জেলা শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি এসএম শফিকুল আলম ডাবলু বলেন, ‘ভারতীয় গরু আমাদের দেশে না আসলে সবার জন্যই মঙ্গলজনক। ভালো দাম পেলে স্থানীয় খামারি ও গৃহস্থ গরু পালন করে লাভবান হবেন। আরও অনেকে গরু পালনে আগ্রহী হবেন।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নীলফামারীতে এবার দুই লাখ ৯৮৯টি গবাদিপশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত আছে। এর মধ্যে সদরে ১৫ হাজার ৪৯৮, সৈয়দপুরে ৯ হাজার ৬৭২, ডোমারে ১১ হাজার ১২৮, ডিমলায় ১১ হাজার ৭৭২, জলঢাকায় ১৪ হাজার ৫২৭ ও কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ১২ হাজার ১৫৮টি। জেলার ছয় উপজেলায় এক লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি পশুর চাহিদা রয়েছে। হিসাবে উদ্ধৃত থাকবে ৭৮ হাজার ৩৫২টি গবাদিপশু। গত বছর জেলায় ৭৪ হাজার ৭২৫টি গবাদিপশু প্রস্তুত ছিল। হিসাবে উৎপাদন বেড়েছে দ্বিগুণ।
জেলায় খামারি রয়েছেন ৩০ হাজার ৬৮৮ জন। এর মধ্যে সদরে পাঁচ হাজার ৭২৫, সৈয়দপুরে চার হাজার ২৬৯, ডোমারে চার হাজার ৬৯৬, ডিমলায় চার হাজার ৮৭৯, জলঢাকায় পাঁচ হাজার ৯৯২ ও কিশোরগঞ্জে পাঁচ হাজার ১২৭ জন।
সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এবার কোরবানির ঈদে যে পরিমাণ সুস্থ পশু মজুত আছে, তাতে সংকটের কোনও সম্ভাবনা নেই। পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দেশি জাতের ছোট গরু। পাশাপাশি খাসি, ভেড়া ও ছাগলের চাহিদাও আছে।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোনাক্কা আলী বলেন, ‘এবার সীমান্তে কড়া নজরদারি থাকায় গরু আসছে না। ফলে হাটে দেশি গরু বেশি। জমজমাট বেচাকেনা হচ্ছে। ন্যায্য দাম পাওয়ায় খামারি ও গৃহস্থরা বেশ লাভবান হচ্ছেন।’