দেশের বাজারে আমদানির অনুমতি দেওয়ার পরও কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না কাঁচা মরিচের দাম। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমের অজুহাতে দিনাজপুরের হিলিতে আবারও একদিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। একদিন আগেও যা ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল তা এখন বেড়ে ৫০০ টাকা দাঁড়িয়েছে। এদিকে কাঁচা মরিচের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে বলেও জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
শুক্রবার (৩০ জুন) সরেজমিন হিলির কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারের অধিকাংশ দোকানেই কাঁচা মরিচ মিলছে না। দু-একটি দোকানে অল্প পরিমাণে কাঁচা মরিচ বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে। বাড়তি দামের কারণে দোকানিরা কাঁচা মরিচ বিক্রি করছেন না। তেমনি ক্রেতাদেরও কাঁচা মরিচ কেনা থেকে বিরত থাকতে দেখা গেছে।
হিলি বাজারে কাঁচা মরিচ কিনতে আসা মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারে কাঁচা মরিচের যে ঝাঁঝ তাতে হাত দেওয়া যাচ্ছে না। কাঁচা মরিচের দামে কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। যে যেভাবে পারছে দাম বাড়িয়েই চলছে। ঈদের আগে যে কাঁচা মরিচ ২৪০ টাকা কেজি দরে কিনে নিয়ে গেলাম, ঈদের পরদিন তার দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। বর্তমানে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।’
বাজারে আসা নাসরিন সুলতানা বলেন, ‘একে তো নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বাড়ছে। আমাদের মতো মানুষের সংসার চালাতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। আগে যেখানে কাঁচা মরিচ এক কেজি বা হাফ কেজি কিনতাম, এখন তা দুঃস্বপ্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে ১২৫ গ্রাম কিনছি। তারপরেও চিন্তায় আছি, দাম বাড়তে থাকলে হয়তো খাওয়া ছেড়ে দিতে হবে।’
হিলি বাজারের সবজি বিক্রেতা মমতাজ হোসেন বলেন, ‘ভারত থেকে আমদানি বন্ধ থাকলেও দেশি কাঁচা মরিচ দিয়েই দেশের বাজারে সাধারণ মানুষের চাহিদা মিটছিল। কাঁচা মরিচের দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের মধ্যেই ছিল। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে চলা অতিরিক্ত গরমের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাঁচা মরিচের ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আবার শুরু হয়ে ঝড়-বৃষ্টি। বাজারে কাঁচা মরিচের যে চাহিদা সেই তুলনায় সরবরাহ কমের কারণেই দাম বাড়ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মোকামে প্রায় প্রতিদিনই কাঁচা মরিচের দাম বাড়ছে। আমরা যখন যে দামে কিনছি সেই মোতাবেক বাজারে বিক্রি করছি। আমরা ঈদের আগে কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা কেজিতে কিনে বাজারে বিক্রি করেছিলাম ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে। আজ সেই কাঁচা মরিচ মোকামেই ২৫ কেজি কিনলাম ১০ হাজার টাকা দিয়ে। মানে কিনতেই আমাদের ৪০০ টাকা কেজি পড়লো। এর সঙ্গে পরিবহন খরচ রয়েছে। নষ্টসহ অন্যান্য কিছু মিলিয়ে ৫০০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ বিক্রি করছি। তবে আবহাওয়া ভালো হলে কাঁচা মরিচের সরবরাহ যদি বাড়ে সেক্ষেত্রে দাম কিছুটা কমতে পারে। এছাড়া ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হলেও এর প্রভাব পড়েনি বাজারে।’
হিলি স্থলবন্দরের কাঁচা মরিচের আমদানিকারক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ২৫ জুন ভারত থেকে আমদানির অনুমতি (আইপি) দেয় সরকার। বন্দরের কয়েকজন আমদানিকারক বেশ কয়েক হাজার টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি পায়। সেই মোতাবেক কাঁচা মরিচ আমদানির জন্য এলসি খুললে দীর্ঘ ১০ মাস বন্ধের পর ২৬ জুন আমদানি শুরু হয়। আমদানি করা এসব কাঁচা মরিচ বন্দরে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে পাইকারিতে বিক্রি করা হয়। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা এসে কিনে নিয়ে যায়। তবে মাত্র একদিন বন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে। এরপর ঈদের ছুটির কারণে বন্দর দিয়ে আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। ঈদের ছুটি শেষে আবারও আমদানি শুরু হলে দাম কমে আসতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে ভারতের মোকামেই কাঁচা মরিচের দাম বেশি। এর ওপর রফতানি শুরু হওয়ায় কেজিতে আরও ২০ টাকা করে বেড়েছে দাম। এতে ভারত থেকে ওই দামে কাঁচা মরিচ কিনে এর সঙ্গে গাড়ি ভাড়া যোগ হচ্ছে। এছাড়া ১ কেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে শুল্ক দিতে হচ্ছে ৩৫ টাকা।’
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘আমদানির অনুমতি না থাকায় ১০ মাস বন্ধের পর গত ২৬ জুন থেকে আবারও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়। এদিন বন্দর দিয়ে পাঁচটি ট্রাকে ২৭ হাজার ১৬৬ কেজি কাঁচা মরিচ আমদানি হয়। তবে ঈদুল আজহার কারণে বন্দরের ব্যবসায়ীরা ২৭ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত আমদানি-রফতানি বন্ধ ঘোষণা করেছে।’