লোকসানের আশঙ্কায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি বন্ধ

ঈদের ছুটির পর বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু হলেও দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কমে যাওয়ায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারকররা। লোকসানের আশঙ্কায় কাঁচা মরিচ আমদানি করছেন না বলে জানিয়েছেন তারা। দেশের বাজারে আবারও দাম বাড়লে অথবা ভারতের বাজারে দাম কিছুটা কমলে আবারও কাঁচা মরিচ আমদানি করবেন বলে জানান তারা।

ঈদুল আজহার ছুটি উপলক্ষে টানা ছয় দিন বন্ধের পর সোমবার (৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশের মধ্য দিয়ে বন্দর দিয়ে দুদেশের পণ্য আমদানি-রফতানি শুরু হয়েছে। তবে বন্দর দিয়ে কোনও কাঁচা মরিচ আমদানি হয়নি। বিকাল সাড়ে ৩টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও আমদানি করা কাঁচা মরিচ বোঝাই ট্রাক দেশে প্রবেশ করেনি।

হিলি স্থলবন্দরের কাঁচা মরিচ আমদানিকারক আনোয়ার হোসেন জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে কাঁচা মরিচের যে দাম রয়েছে তাতে ভারত থেকে আমদানি করলে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা লোকসান গুনতে হবে। বর্তমানে ভারতের মোকামে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ভারতীয় টাকায় ১১০ থেকে ১২০ রুপি দরে কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে পরিবহন খরচ ১৫ টাকা, যা বাংলাদেশি টাকায় ১৫০ টাকার মতো পড়ছে। কাস্টমসে শুল্ক, বন্দর চার্জ ও অন্যান্য খরচ বাবদ কেজিপ্রতি খরচ হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। এ অবস্থায় ভারত থেকে এক কেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে আমাদের মূল্য দাঁড়াচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। কিন্তু ইতোমধ্যে দেশে কাঁচা মরিচের পাইকারি বাজার নেমে এসেছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায়। এ অবস্থায় ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি করে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে আমদানিকারকদের। যার ফলে লোকসান থেকে বাঁচতে হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি বন্ধ করে দিয়েছেন।

হিলি স্থলবন্দরের অপর কাঁচা মরিচ আমদানিকারক বাবলুর রহমান বলেন, ‘দেশে কাঁচা মরিচের দাম অস্থিতিশীল হয়ে উঠলে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত ২৫ জুন ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। সেই মোতাবেক ২৬ জুন থেকেই বন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু করা হয়। এদিন বন্দর দিয়ে পাঁচটি ট্রাকে ২৭ টন ১৬৬ কেজি কাঁচা মরিচ আমদানি করা হয়। এসব কাঁচা মরিচ বন্দরে ২০০ টাকা থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়েছিল। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা এসব কাঁচা মরিচ কিনে নিয়ে যান। এরপর ঈদের ছুটির কারণে বন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। এর মাঝে দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের দাম আরও বাড়তে থাকে। এমন অবস্থায় বন্দর খোলার পর আমরা ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু ঈদের ছুটি শেষে গতকাল বেনাপোল ও ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে। এর সঙ্গে দেশি কাঁচা মরিচের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। যার কারণে ঈদের ছুটি শেষে আজ হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু হলেও কাঁচা মরিচ আমদানি বন্ধ রেখেছি।’

হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের সংগনিরোধ রোগতত্ত্ববিদ শামীম আহমেদ বলেন, আমদানিকৃত কাঁচা মরিচ পরীক্ষা শেষে দ্রুত সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে, যাতে আমদানিকারকরা দ্রুত খালাস করে নিতে পারেন। রবিবার বিকাল পর্যন্ত হিলি স্থলবন্দরের ১১ জন আমদানিকারক ৪ হাজার ২০০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি পেয়েছেন।