কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন মন্টুর বিরুদ্ধে উপজেলার ২০ সরকারি কর্মকর্তার দেওয়া অভিযোগের ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব ড. মাসুরা বেগম স্বাক্ষরিত চিঠিটি গত ২৫ জুলাই মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
গোলাম হোসেন মন্টু ওয়েবসাইটে চিঠি প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে সোমবার (৩১ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাননি বলে জানিয়েছেন। তবে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত চিঠি যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে ইস্যু করা হয়নি বলে দাবি করেছেন মন্টু।
উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ৭ জুন তারিখের ৪৩৬ নম্বর স্মারকের সূত্র উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘উলিপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম হোসেন মন্টুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাকে হুমকি প্রদান, অসৌজন্যমূলক আচরণসহ অন্যান্য অভিযোগ ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল হওয়ায় উপজেলা পরিষদ আইন-১৯৯৮-এর ১৩ (১) (খ) ও (গ) ধারা অনুযায়ী কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। পত্র প্রাপ্তির সাত কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন মন্টু বলেন, ‘চিঠিটি যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে ইস্যু করা হয়নি। আমার বিরুদ্ধে অসত্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কোনও ধরনের যাচাই-বাছাই কিংবা তদন্ত ছাড়া এভাবে চিঠি দিতে পারে না মন্ত্রণালয়। আমার বিরোধী পক্ষ প্রভাব খাটিয়ে এই চিঠি তৈরি করে নিয়েছে। এতে আমি বিচলিত নই। আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পেলে আমি এর জবাব দেবো।’
আরও পড়ুন: ‘নিয়ম ভেঙে’ উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ২০ সরকারি কর্মকর্তার অভিযোগ
‘আগামী নির্বাচনে আমি কুড়িগ্রাম-৩ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপ্রত্যাশী। এজন্য প্রতিপক্ষ নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারা প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আমার বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ দিচ্ছে। এটি তারই অংশ। তবে এসব করে কোনও লাভ হবে না’ যোগ করেন এই উপজেলা চেয়ারম্যান।
এর আগে গত ৩১ মে গোলাম হোসেন মন্টুর বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন উপজেলার ২০ জন সরকারি কর্মকর্তা। মন্টু উপজেলায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সময় হুমকি, অশোভন বাক্য প্রয়োগ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন দাবি করে এই অভিযোগ করেন কর্মকর্তারা। ইউএনও পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি লিখিত আকারে জেলা প্রশাসক বরাবর অগ্রগামী করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন মন্টুর কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেয়।