রংপুর নগরীতে শিল্প ও বাণিজ্য মেলা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলের শতাধিক ব্যবসায়ী সমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাণিজ্য মেলার আয়োজন বন্ধ না করলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
রবিবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিল নিয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের সামনের সড়কে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মেলা বন্ধের দাবি জানান সিটি মেয়র।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জেলা দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলতাফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক লিটন পারভেজ, মহানগর মালিক সমিতির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন, সিনিয়র সহসভাপতি মফিজার রহমান চান, সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রশিদুজ্জামান বুলবুল ও সালেক মার্কেট, জামাল মার্কেটসহ বিভিন্ন শপিংমলের ব্যবসায়ীরা।
সমাবেশে দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলতাফ হোসেন বলেন, ‘রংপুরে কোনও শিল্পকারখানা নেই। অথচ শিল্পের প্রচারের নামে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করার জন্য ঘন ঘন বাণিজ্য মেলা বসানো হচ্ছে। বিশেষ মহলকে লাভবান করার জন্য এই আয়োজন করা হয়। মেলায় নিম্নমানের সামগ্রী কম দামে বিক্রি করে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়। দুই মাস আগে বাণিজ্য মেলা বসেছিল। এখন আবারও মেলা বসানোর আয়োজন চলছে। এটি বন্ধের দাবি জানাচ্ছি আমরা।’
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লিটন পারভেজ বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিরোধীদলের বিভিন্ন কর্মসূচি ও সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন কারণে নগরীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বেচাকেনা নেই বললেই চলে। তার ওপর কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ বিল ও আয়কর দেওয়াসহ বিভিন্ন খরচে লোকসান গুনতে হচ্ছে আমাদের। এ অবস্থায় বারবার বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হলে ব্যবসায়ীরা আরও লোকসানে পড়বেন। সেজন্য ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাণিজ্য মেলা বন্ধের দাবি জানাই। না হয় কঠোর আন্দোলনে নামবো আমরা।’
স্থানীয় সূত্র জানায়, সর্বশেষ গত ১৯ অক্টোবর নগরীর ক্রিকেট গার্ডেন মাঠে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করেছিলেন। রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বারের উদ্যোগে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের প্রচার, নতুন ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে আর্থিক কর্মকাণ্ড বেগবান করতেই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। আগামী মাসে আবারও মেলার আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মেলার আয়োজক মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি রেজাউল ইসলাম মিলন বলেন, ‘এখনও মেলার দিন-তারিখ নির্ধারণ করিনি আমরা। তবে আগামী মাসে আয়োজনের চিন্তাভাবনা করছি। মেলায় ব্যবসায়ীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আছে। এতে ব্যবসায়ীদের লোকসানের কোনও কারণ দেখছি না। তারা কেন হঠাৎ করে বিক্ষোভ করলেন, তাও জানি না। গত মেলায় ১০২ স্টলের মধ্যে ২০-২৫টি ছিল স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। বাকিগুলো ছিল ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীদের। ওই মেলায় কয়েক কোটি টাকার বেচাকেনা হয়েছিল। তাই অনেকে অনুরোধ করেছেন, যাতে আবারও মেলার আয়োজন করা হয়।’