৫ জনকে হারিয়ে বিপুল ভোটে ভাইস চেয়ারম্যান সেই সুইটি

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন ৩ ফুট উচ্চতার শারীরিক প্রতিবন্ধী ইশরাত জাহান সুইটি।

বুধবার (০৮ মে) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রজাপতি প্রতীকে ৯৬ হাজার ৭৪৯ ভোট পেয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রেহেনা বেগম পদ্মফুল প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ হাজার ২৯৫ ভোট। অপর প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে জরিনা বেগম ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ২২ ভোট, মাহমুদা বেগম হাঁস প্রতীকে পেয়েছেন আট হাজার ৬৭৫ ভোট, বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তানজিনা আফরোজ কলস প্রতীকে পেয়েছেন তিন হাজার ১৯৯ ভোট ও শারমিন আক্তার বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীকে পেয়েছেন তিন হাজার ৮১ ভোট। 

বুধবার রাতে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফারুক আহম্মেদ। এ সময় উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে উপস্থিত সবাই তাকে স্বাগত জানান।

সুইটি পীরগাছা উপজেলার অনন্তরাম গ্রামের ফারুক আহম্মেদের স্ত্রী। জন্মের পর পাঁ বেঁকে যাওয়ায় অন্য ৮-১০টা শিশুর মতো তার জীবনযাত্রা স্বাভাবিক ছিল না। শিশু বয়সেই বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। ঠিকমতো বাবা-মায়ের যত্ন পাননি। পাননি চিকিৎসা। এত প্রতিবন্ধকতার মাঝেও কারমাইকেল কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করেছেন। পরে সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। দীর্ঘদিন ধরে বিন্দু রক্তদান সমাজসেবা সংগঠনের নেত্রী হিসেবে অসহায় মানুষের জন্য কাজ করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে এক সন্তানের জননী এই নারী। 

বিজয়ী হওয়ার পর সুইটি বলেন, ‘আমার এই বিজয় পীরগাছাবাসীকে উৎসর্গ করলাম। এই বিজয় পীরগাছার মানুষের। তারা যে ভালোবাসা আমাকে দেখিয়েছেন, তার মান যেন আমি রক্ষা করতে পারি, সেজন্য সবার দোয়া চাই। সেইসঙ্গে আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করায় সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এত মানুষের সাড়া পাবো ভাবিনি। মানুষের ভালোবাসা এবং তাদের ঋণ কখনও ভুলবো না। আগামী দিনে সবার আপদে-বিপদে পাশে থাকতে চাই, সেইসঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে সবার পরামর্শ চাই।’

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুইটি ও তার স্বামী বিন্দু রক্তদান সংগঠনের পক্ষ থেকে উপজেলার ১০ হাজারের বেশি অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে রক্তদান, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্যাম্পেইন করে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করেছেন। এই কাজ তাকে সবার কাছে পরিচিত করে তুলেছে।