ঠাকুরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগ নেতা এক ইউপি চেয়ারম্যান কুপিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার (১ ডিসেম্বর) আনুমানিক রাত ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের সোটাপীর নামক এক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, ওই ইউপি চেয়ারম্যানের নাম মো. রইছউদ্দীন। তিনি গড়েয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
তবে হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্র জানায়, আহত অবস্থায় রবিবার গভীর রাতে হাসপাতালে ভর্তি হলেও সোমবার সকালের আগেই হাসপাতাল থেকে ‘আত্মগোপনে’ চলে গেছেন রইছউদ্দীন।
ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে তাকে দেখতে আসা স্থানীয় এলাকাবাসী ও চেয়ারম্যানের স্বজনরা জানান, গড়েয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মোটরসাইকেলে করে ঠাকুরগাঁও জেলা শহরে যাচ্ছিলেন রইছউদ্দীন। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। চিৎকার করে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়লে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। পরে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসার পরে চেয়ারম্যানকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে ব্যাপারে কিছু জানাতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. রফিকুল ইসলাম চয়ন সোমবার দুপুরে টেলিফোনে বলেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন আহত চেয়ারম্যান, এ পর্যন্ত হাসপাতালে নোট রয়েছে। তবে আজ এসে তাকে আমরা হাসপাতালে পাইনি।’
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পুলিশ সদস্যদের পাঠানো হয়। ব্যাপারটিকে আমরা প্রথমত একজন আক্রান্ত ব্যক্তিকে উদ্ধারের বিষয় হিসেবেই দেখেছি, তার রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়নি। ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু তিনি আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা, তাই তিনি হাসপাতাল ছেড়ে আত্মগোপনে গিয়ে থাকতে পারেন।’ আহত চেয়ারম্যান কোনও মামলার আসামি কি না, সে ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান ওসি। তবে শারীরিক অবস্থাসহ তার ব্যাপারে এবং তার ওপর আক্রমণের ব্যাপারে বিস্তারিত খতিয়ে দেখছে পুলিশ বলে জানান তিনি।