কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানা পুলিশের এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলার বাদীকে ‘লাথি-জুতাপেটা’ করার অভিযোগ উঠলেও তদন্তের এর কোনও সত্যতা পায়নি জেলা পুলিশ গঠিত তদন্ত কমিটি। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকালে কচাকাটা থানায় গিয়ে অভিযোগের তদন্ত করে কমিটি।
এর আগে বুধবার কচাকাটা থানার ভেতরে একটি পিটিশন মামলার বাদীকে লাথি মারা এবং স্যান্ডেল দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মামুনার রশিদের বিরুদ্ধে।
তবে বাদীর সাথে বাগবিতণ্ডার কথা স্বীকার করলেও মারধরের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন এসআই মামুনার রশিদ। থানার ওসি নাজমুল আলমও অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে ঘটনার তদন্তে কমিটি করে জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার এসপিসহ পুলিশের একটি তদন্ত দল কচাকাটা থানায় গিয়ে বাদীসহ সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।
পুলিশ জানায়, ভূরুঙ্গামারী-কচাকাটা সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাসুদ রানার নেতৃত্বে সিআইডি ইন্সপেক্টর (অপরাধ) মাসুদ রানা এবং ডিএসবি ইনচার্জ আলমগীর হোসেনকে নিয়ে তদন্ত কমিটি করা হয় । বৃহস্পতিবার সকালে কমিটি ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে ।
তদন্তে সাক্ষ্য দেন বাদী হোসেন আলী ও তার বড় ভাই হাছেন আলীসহ তাদের বাবা তফাজ্জল হোসেন। এ ছাড়াও অভিযুক্ত এসআই মামুনার রশিদেরও বক্তব্য নেওয়া হয়। অভিযোগকারী হোসেনের অভিযোগের ভিত্তিতে থানার সংশ্লিষ্ট ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করে তদন্ত কমিটি।
ওসি নাজমুল আলম বলেন, সাক্ষ্য প্রমাণে বাদীর অভিযোগের কোনও সত্যতা পাওয়া যায়নি। তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে থানার সংশ্লিষ্ট সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই ও বিশ্লেষণ করেছেন তদন্ত কমিটি। অভিযোগের কোনও সত্যতা পাওয়া যায়নি।
‘বাদী হোসেন অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছিলেন। তার অভিযোগের সকল দিক যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পাওয়া যায়নি। মূলত তার করা পিটিশন মামলার প্রতিবেদন তাদের চাহিদা ও পছন্দমাফিক না হওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বিব্রত করতেই এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন তিনি’ যোগ করেন ওসি।
কুড়িগ্রাম এসপি মাহফুজুর রহমান বলেন, অভিযোগকারী হোসেন যে অভিযোগ করেছেন তা নির্জলা মিথ্যা। তার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি সাক্ষ্য প্রমাণের পাশাপাশি থানার সিসি টিভির ফুটেজ যাচাই-বাছাই করেছে। ন্যূনতম সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ ধরনের অভিযোগ পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ জন্য সব পক্ষকে আরও বেশি দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ থাকবে।