চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন এখনও স্বজনপ্রীতি করছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জোবাইরুল আলম। তিনি বলেছেন, ‘আমরা ইউএনওকে প্রশ্ন করতে চাই, ওসিকে প্রশ্ন করতে চাই; আপনারা কি ৩৬ জুলাই দেখেন নাই? তখন কীভাবে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা থানাগুলোকে জ্বালিয়ে দিয়েছিল? আপনারা কি তখন দেখেন নাই, জনগণের টাকায় চলা এই পুলিশকে আমরা পিটিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছিলাম?’
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকাল ৫টার দিকে আনোয়ারা উপজেলার চাতরী চৌমুহনী টানেল মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক গণসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর উপলক্ষে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি আবদুল গনির সভাপতিত্বে এবং উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আবুল হাসানের সঞ্চালনায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ওই সমাবেশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের ভিডিওটি নিজের ওয়ালেও শেয়ার করেন জোবাইরুল আলম।
সমাবেশে বক্তব্যে জোবাইরুল আলম বলেন, ‘আমরা দেখি, এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেন হয়েছিল। আমরা দেখেছি, রাষ্ট্রীয় যত প্রশাসন আছে, পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে...কেউ তখন প্রশাসনের পোশাক পরে ছিল না। সবাই আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল। উপজেলা, পুলিশ, থানা প্রশাসনে বিরোধী দলের কেউ ঢুকতে পারে নাই।’
জোবাইরুল আলমকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা এখনো দেখি...আমরা যখন বিরোধী দল থেকে ইউএনওকে কিছু বলতে চাই, কোনও প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে কিছু বলতে যাই, তখন তারা বলে, “আপনারা এমপি সাহেবের সঙ্গে কথা বলুন।” আমরা এখনও দেখি, আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসন, তারা দলীয় স্বজনপ্রীতি করতেছে। আমরা এখনও দেখতেছি, এমপির নির্দেশনা ছাড়া কোনও একটা ফাইল উপজেলা প্রশাসনে নড়ে না।’
জোবাইরুল আলম বলেন, ‘আমরা এখনও দেখি, সরকারি যে সহায়তাগুলো আছে...সবগুলোর বিষয়ে আমরা খবর পাই, বিভিন্ন নেতাকে, যারা আছে বিএনপির, তাদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়ে যায়। এই ফ্যামিলি কার্ডের নামে বিভিন্ন ধরনের নিয়োগ নিচ্ছে। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থী, সাধারণ তরুণ যারা এখানে যাচ্ছে, তাদেরকে বলা হচ্ছে, “এমপি থেকে সুপারিশ নিয়ে আসেন।”’
উপজেলা প্রশাসনে উদ্দেশে জোবাইরুল আলম বলেন, ‘আপনারা আবার যদি আওয়ামী লীগ হয়ে উঠতে চান, আমরা যেমন আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরতে দেবো না, কাউকে আওয়ামী লীগ হয়ে উঠতেও দেবো না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জোবাইরুল আলম বলেন, ‘ভিডিওতে পুরো বক্তব্য আসেনি। আমরা চাই না, জনগণের যে ক্ষোভ আছে, সেটা আরও বাড়ুক। জুলাই আন্দোলনের সময় যেমন পরিস্থিতি হয়েছিল, আমরা চাই না, আবার প্রশাসনের সঙ্গে সে রকম মুখোমুখি অবস্থা তৈরি হোক। বক্তব্যে এটাই বুঝিয়েছিলাম। আমরা চাই, একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণ হোক।’
তবে তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।









