রংপুর-৪ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবার রহমানের গাড়ি আটকে ‘মব’ তৈরি করে হেনস্তা করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রংপুর মহানগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সরেয়ার তৈল বাজার এলাকায়। এ ঘটনায় দুই জনকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
জাপা প্রার্থী এ ঘটনার জন্য এনসিপিকে দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন, রংপুরের পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-৪ আসনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহবুবার রহমান ব্যক্তিগত কাজে গাড়িতে করে রংপুর নগরীতে আসার সময় রংপুর মহানগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সরেয়ার তৈল বাজার এলাকায় এলে এনসিপির স্টিকার লাগানো মোটরসাইকেলে ১০/১২ জন এসে জাপা প্রার্থীকে বহন করা গাড়ি আটকে প্রথমে গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নেন। এরপর তারা মব তৈরি করে জাপা প্রার্থী মাহবুবার রহমানকে আটক করে তাকে হেনস্তা করেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা জাপা কর্মীদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন।
এ সময় তাদের চিৎকারে বাজারে থাকা লোকজন ও এলাকাবাসী এগিয়ে এলে তাদের ওপরও চড়াও হন। পরে এলাকাবাসী প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং দুই এনসিপির কর্মীকে শাপলা কলির স্টিকার লাগানো মোটরসাইকেলসহ আটক করেন। এ সময় অন্যরা দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান।
এ ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী ও জাতীয় পার্টির সমর্থকরা রংপুর পীরগাছা সড়কে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এলে আটক দুই এনসিপি কর্মীকে তাদের কাছে হস্তান্তর করেন।
এ বিষয়ে রংপুর-৪ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবার রহমান অভিযোগ করেন, তিনি তার নির্বাচনি এলাকায় নয়, রংপুর নগরীতে ব্যক্তিগত কাজে আসার সময় তার গাড়ি আটক করে মব তৈরি করে হেনস্তা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তারা (এনসিপি) সারা দেশে এমন নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। আমি এমপি প্রার্থী হওয়ায় আমার ওপর যে ঘটনা ঘটানো হলো তার বিচার চাই।’
তবে স্থানীয়দের হাতে আটক দুই এনসিপি কর্মীর নাম জানায়নি পুলিশ।
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন মাহিগঞ্জ থানার ওসি মাইদুল ইসলাম বলেন, একটু সমস্যা হয়েছিল। কথা কাটাকাটির পর ঠিক হয়ে গেছে। ঘটনার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট পুরো ঘটনা লিখিতভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়ে অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
ওসি জানান, এ বিষয়ে জাপা এমপি প্রার্থীর কোনও লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।