লালমনিরহাটের একমাত্র চামড়াজাত জুতা তৈরির কারখানাটি হলো ‘বর্ষা সু’। মেরামতের ছোট দোকান থেকে আজ বড় কারখানায় রূপ নিয়েছে। আছে অনেক কারিগর-কর্মচারী। সারা বছরই থাকে ব্যস্ততা থাকলে ঈদকে ঘিরে তাদের কাটছে নির্ঘুম সময়।
‘বর্ষা সু’ কারখানা থেকে তৈরি জুতা কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুরসহ আশপাশের জেলার দোকানিরা বিক্রির জন্য নিয়ে যান।
কারখানা ঘুরে দেখা যায় গেছে, কারিগররা কাজ করছেন। দম ফেলার অবস্থা নেই। একটি জুতা চার জন কারিগর তৈরি করেন। তারা একেকজন জুতার একেক অংশের কাজ করেন।
মালিক বলছেন, প্রতি মাসে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার বেশি বিক্রি হয়। এর থেকে কারখানার কারিগরদের মজুরিসহ সব খরচ বাদ দিয়ে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত টিকে।
কারিগর বজলু মিয়া জুতার ফাইনাল বা সোলের কাজ করেন। ডজন হিসাবে কাজ করেন। এক ডজন সোলের কাজ করলে মজুরি পান ৮৫০ টাকা। দিনে এক থেকে দেড় ডজন জুতার কাজ করতে পারেন।
জুতার উপরের অংশের কাজ করেন জাহিদুল ইসলাম। তিনি জুতার ফিতা, জামরার কাভার, জামরা সেলাই এগুলো করে থাকেন। তিনি দুই ডজন জুতার কাজ করতে পারেন। এতে তিনে ৮০০ টাকা মজুরি পান।
কারখানার মালিক বিমল দাস বলেন, ৯ বছর ধরে আমরা এই প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছি। নিজেরা জুতা তৈরি করি। পাইকারি বিক্রি করি। কুড়িগ্রাম, রংপুরসহ আশপাশের জেলা থেকে দোকানিরা আমাদের তৈরি জুতা নিয়ে যায়। কাঁচামাল কিনতে হয় গুলিস্তান, বংশাল থেকে।
তিনি বলেন, ৯ বছর আগের তুলনায় এখন এক ভাগ লাভ হয়। কোনও সহায়তা নাই। আমার স্বপ্ন এখানে মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হোক। আমাদের প্রতিষ্ঠানে যদি কম সুদের ঋণের মতো প্রণোদনা দেওয়া হয়, তবে আমরা আরও ভালো কিছু করতে পারবো।
স্থানীয় রঞ্জু মিয়া বলেন, এখান থেকে নিয়মিত চামড়ার জুতা ও স্যান্ডেল কিনে ব্যবহার করি। এখানে যার দাম ৪০০ টাকা, বাজারের অন্য দোকানে তা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা বা তারও বেশি। বাজার থেকে কিনে প্রতারণার শিকার হতে হয়। প্যাকেটে এক রকম, বাস্তবে অন্যরকম। আমরা এখানে অর্ডার দিয়েও বানিয়ে নিতে পারি। এখানে প্রতারিত হওয়ার কোনও বিষয় নেই।