গাইবান্ধার একটি পেট্রল পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চালকরা পেট্রল পাননি। তবে সেসময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরকারি গাড়ি ও বড় ড্রামভর্তি করে পেট্রল নিয়ে গেছেন।
সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জেলা শহরের কাদির অ্যান্ড সন্স ডিপোতে এ ঘটনা ঘটে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ লাইলাতুল হোসেন সরকারি গাড়ি ও ড্রামভর্তি পেট্রল উত্তোলনের সময় স্থানীয় মোটরসাইকেল চালকরা চার-পাঁচ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও ইউএনও ক্ষমতার অপব্যবহার করে অতিরিক্ত তেল নিয়েছেন বলে অভিযোগ তাদের।
চালকরা জানান, তিন দিন বন্ধ থাকার পর সোমবার তেল দেওয়ার কথা শুনে বিকাল ৪টা থেকে তারা কাদির অ্যান্ড সন্স তেলের পাম্পে ভিড় জমান। সন্ধ্যার কিছু আগে সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর ইসলাম বাবুর উপস্থিতিতে তেল বিক্রি শুরু হয়। দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করে তেল নিচ্ছিলেন চালকরা।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অপেক্ষমাণ চালকদের উপেক্ষা করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি গাড়ি পাম্পে ঢুকে পড়ে। চালকদের তেল দেওয়া বন্ধ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িটিতে পরিপূর্ণভাবে তেল দেওয়া হয়। এরপর একে একে তিনটি বড় আকারের ড্রাম জ্বালানি তেলে পূর্ণ করে গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। এ সময় গাড়ির হর্ণ বাজিয়ে প্রতিবাদ জানান বিভিন্ন পরিবহনের চালকরা। এ অবস্থা দেখে দ্রুত ইউএনওর সরকারি গাড়িটি স্থান ত্যাগ করে।
তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক মজিদুল ইসলাম জানান, সরকার যেখানে তেল সংকট না থাকার কথা বলছে, সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকাশ্য নিজের গাড়ি পূর্ণ করে আবার মজুত করার উদ্দেশে তেল নিয়ে যাচ্ছেন। এটি জনসাধারণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
আরেক মোটরসাইকেল চালক হাবিব রহমান বলেন, ‘চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল নিতে পারলাম না। আর ইউএনও ক্ষমতা দেখিয়ে গাড়ি পূর্ণ করার পাশাপাশি জার পূর্ণ করে তেল নিয়ে গেলেন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ লাইলাতুল হোসেন বলেন, ‘আমার সরকারি গাড়িতে পেট্রল নেওয়ার বিষয়টি সঠিক। তবে ড্রামে যে তেল নেওয়া হয়েছে সেটি ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্পিডবোটের জন্য। ভুল করে আমার গাড়িতে তুলে দিয়েছে।’ সংকটকালে এভাবে তেল নিতে পারেন কিনা এমন প্রশ্ন করলে তিনি এড়িয়ে যান।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি কোনও তেল এখনও পাইনি। খোঁজ নিয়ে জানাতে পারবো সেগুলো আমার বরাদ্দকৃত তেল কিনা।’