সপ্তাহের ব্যবধানে হিলিতে হালিতে ডিমের দাম বেড়েছে ১২ টাকা

সরবরাহ কমের অজুহাতে সপ্তাহের ব্যবধানে দিনাজপুরের হাকিমপুরে হিলিতে হালিপ্রতি ডিমের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১২টাকা। হঠাৎ ডিমের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা। তীব্র গরমে মুরগি মারা যাওয়ায় ডিমের সরবরাহ কমায় দাম বেড়েছে বলে দাবি বিক্রেতাদের।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকা দরে যা সপ্তাহখানেক আগেও ৩২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। আর প্রতি পাতা ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩২০ টাকায়, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ২৪০ টাকা।

হিলি বাজারে ডিম কিনতে আসা আয়েশা আকতার বলেন, গত সপ্তাহে ডিম কিনেছিলাম ৩২ টাকা হালি দরে। আজ ডিম কিনতে এসে দাম শুনে অবাক- প্রতি হালি ডিমে চাইছে ৪৪ টাকা। হালিপ্রতি ডিমের দাম বেড়েছে ১২ টাকা করে। আমরা তো নিম্ন আয়ের মানুষ, আমাদের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর একমাত্র উপকরণ ডিম। কিন্তু সেই ডিমের দাম বাড়ায় আমরা বেশ বিপাকে পড়ে গেছি। আগে যেখানে দুই হালি ডিম কিনতাম এখন সেখানে এক হালি ডিম কিনে সেই চাহিদা মেটাতে হচ্ছে।

ডিম কিনতে আসা হায়দার আলী বলেন, দোকানিরা বলছেন গরমে মুরগি মারা যাওয়ায় ডিমের উৎপাদন কমে গছে, তাই দাম বাড়ছে। আসলে এমন কথা কি সত্যি কিনা নাকি কোনও সিন্ডিকেট করে ডিমের এমন দাম বাড়ছে সেটি যাচাই করা দরকার। কারণ বাজারের প্রতিটি ডিমের দোকানেই তো পর্যাপ্ত ডিম রয়েছে, তারপরেও কেন দাম বাড়ছে।

হিলি বাজারের ডিম বিক্রেতা সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমরা মূলত রংপুর থেকে ডিম সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে থাকি। বেশ কিছু দিন ধরে ডিমের সরবরাহ ভালো থাকায় দাম ২৪০ টাকা পাতা দরে বিক্রি করেছিলাম। কিন্তু এখন মোকাম থেকেই আমাদের চাহিদামতো ডিম সরবরাহ করছে না। যা ডিমের চাহিদা দেওয়া হচ্ছে তার চেয়ে অর্ধেক ডিম দিচ্ছে। তারা বলছে, প্রচণ্ড গরমে খামারের অনেক মুরগি মারা যাচ্ছে, যার কারণে ডিমের উৎপাদন কমে এসেছে। এর ফলে মোকামেই ডিমের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এতে আমাদেরও এখন বাড়তি দামে ডিম কিনতে হচ্ছে। সেই মোতাবেক বিক্রিও করতে হচ্ছে। সরবরাহ বাড়লে আবারও ডিমের দাম কমে আসবে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, কেউ যাতে কোনও পণ্যের কৃত্রিম সংকট করে দাম বাড়াতে না পারেন সেজন্য আমরা নিয়মিতভাবে বাজার মনিটরিং করছি। কারও বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আর্থিক জরিমানা করা হচ্ছে।