আগামী প্রজন্মকে কারিগরি দক্ষতায় গড়ে তোলা সরকারের ভিশন: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘দেশে দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা এবং আগামী প্রজন্মকে কারিগরি দক্ষতায় গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিশন। আর সে লক্ষ্যেই গড়ে উঠছে ঠাকুরগাঁও বিসিক শিল্প নগরীর এই খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এলাকা।’

শনিবার (৯ মে) মন্ত্রী ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা মৌজায় নির্মাণাধীন ‘বিসিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পনগরী, ঠাকুরগাঁও’ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করতে এসে এ কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন- শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব ওবায়দুর রহমান এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম।

পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন- ঠাকুরগাঁও জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক, প্রকল্প পরিচালক হাফিজুর রহমানসহ বিসিক জেলা কার্যালয় ও শিল্পনগরী কার্যালয় ঠাকুরগাঁওয়ের কর্মকর্তারা। এ ছাড়াও স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্যভিত্তিক শিল্প বিকাশে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

পরিদর্শন শেষে শিল্পমন্ত্রী প্রকল্পের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন।

উল্লেখ্য, ‘বিসিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পনগরী, ঠাকুরগাঁও’ প্রকল্পটি জুলাই ২০২১ হতে জুন ২০২৬ মেয়াদে বাস্তবায়নাধীন। প্রকল্পের আওতায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা মৌজায় ৫০ একর জমির ওপর একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও শিল্প কমপ্ল্যায়ান্স সমৃদ্ধ শিল্পনগরী গড়ে তোলা হচ্ছে। এখানে ২৫১টি শিল্প প্লট তৈরি করে প্রায় ২৩০টি শিল্প ইউনিট স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে, যার মাধ্যমে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুগ্ধ, শাক-সবজি, ফলমূল, চা ও কৃষিজ শস্যসহ স্থানীয় কৃষিপণ্যভিত্তিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং উত্তরাঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে। এর ফলে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ সহজতর হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।