বিভাগীয় নগরী রংপুরের অন্যতম প্রধান সড়ক দখল করে বসানো হয়েছে লিচুর পাইকারি বাজার। রংপুর সিটি করপোরেশন কার্যালয় থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে এ বাজার গড়ে উঠলেও তা উচ্ছেদে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে নগরজুড়ে তীব্র যানজট ও ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও পাবলিক লাইব্রেরি হলের সামনের সড়কের প্রায় অর্ধেকজুড়ে বসেছে লিচুর পাইকারি বাজার। ব্যবসায়ীরা অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তার ওপর অবস্থান করায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এই ওয়ানওয়ে সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। সিটি বাজার, শপিংমলসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় যেতে এই সড়কের ওপর নির্ভর করতে হয় সাধারণ মানুষকে। বিকল্প রাস্তা না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত তিন দিনে ওই এলাকায় অন্তত পাঁচটি ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন কয়েকজন।
পথচারী মমতাজ উদ্দিন বলেন, “প্রধান সড়ক দখল করে বাজার বসানোয় চলাচল খুব কষ্টকর হয়ে গেছে।”
চাকরিজীবী আসমা মাসুদ বলেন, “রিকশায় ওই অংশ পার হতে আধা ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে।”
কলেজছাত্র মোস্তাক বলেন, “নগরীর প্রধান সড়ক দখল করে বাজার বসানোর ঘটনা সত্যিই বিস্ময়কর। সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের সামনেই কীভাবে এটি হচ্ছে, সেটাই প্রশ্ন।”
এদিকে, শুধু এই সড়কই নয়, সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে জাহাজ কোম্পানি মোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার ফুটপাতও দখল করে বসানো হয়েছে বিভিন্ন অস্থায়ী দোকান। ফলে পথচারীদের চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, ঈদ উপলক্ষে রংপুর ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ কেনাকাটা করতে নগরীতে আসছেন। কিন্তু যানজট ও ফুটপাত দখলের কারণে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মানবাধিকারকর্মী বলেন, “গত ঈদুল ফিতরের আগেও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে কোনও পরিবর্তন হয়নি। বরং এখন প্রধান সড়কই দখল হয়ে গেছে।”
এ বিষয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুন্নবী ডন বলেন, “বিষয়টি আমরা দেখছি। কোনওভাবেই প্রধান সড়ক ও ফুটপাত দখল করে রাখতে দেওয়া হবে না। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”