নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে মাকে হত্যা করে নিজ ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঘরের মেঝে খুঁড়ে মারুফা বেগম (৬০) নামের ওই নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে পলাতক রয়েছেন। মায়ের মাথায় আঘাত করে হত্যার পর মেঝেতে পুঁতে রাখা হয় বলে জানান স্বজনরা।
নিহত মারুফা বেগম ওই গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী। অভিযুক্ত বড় ছেলে জুয়েল ইসলাম (৩৫) পেশায় ভ্যানচালক। ঘটনার পর থেকে জুয়েল পলাতক থাকায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্ত্রী ও ছেলেকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) কিশোরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেছেন নিহতের ছোট ছেলে লাবিন ইসলাম।
স্থানীয় লোকজন জানান, গত সোমবার মারুফা বেগমকে বাড়িতে দেখা গেলেও এরপর আর দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে সোমবার রাতের কোনও একসময় তাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা হয়।
নিহতের ছোট ছেলে লাবিন ইসলাম জানান, তিনি পোশাককর্মী হিসেবে ঢাকায় কাজ করেন। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। শ্বশুরবাড়ি থেকে বুধবার নিজ বাড়িতে ফেরার পর মাকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে তিনি বড় ভাইয়ের শোয়ার ঘরের মেঝেতে ফাটল দেখতে পান, বিছানায় রক্তের দাগও দেখতে পান। এতে তার সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে বুধবার রাতে ঘরের মাটি খুঁড়ে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, লাশের মাথার সামনে বাঁ দিকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই দিন আগে মাথায় আঘাত করে ওই নারীকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে জুয়েল ইসলাম জড়িত বলে সন্দেহ করছেন ছোট ছেলে। যদিও মামলায় আসামিকে অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করা হয়। জুয়েল পলাতক। প্রাথমিকভাবে তার স্ত্রী হাসি বেগম ও ছেলে গোলাম রাব্বীকে থানায় আনা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।’