ব্রহ্মপুত্রের ডান তীর রক্ষা বাঁধে ফের তীব্র ধস

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধে ফের ধস দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরের পর উপজেলার কাঁচকোল এলাকায় নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধে এই ধস দেখা দেয়। বাঁধের ৬০ মিটার অংশে আকস্মিক তীর সংরক্ষণে ব্যবহৃত ব্লকসহ মাটি ধসে যাওয়া শুরু করায় তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বাঁধের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। ধস রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

এর আগে গত ১ জুলাই বাঁধটির একই স্থানে ৩০ মিটার অংশে ধস দেখা দেয়। পরে সেখানে জরুরি ভিত্তিতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ধস ঠেকানোর উদ্যোগ নেয় পাউবো। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে একই স্থানে আরও বড় পরিসরে ধস দেখা দেওয়ার কারণ হিসেবে বাঁধের প্রতিরক্ষা কাজে নকশার দুর্বলতা এবং ব্রহ্মপুত্রের সম্ভাব্য চ্যানেল পরিবর্তন দায়ী বলে ধারণা করছে পাউবো। নতুন নকশায় প্রতিরক্ষা কাজের জন্য প্রকল্প পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছে পাউবো কর্তৃপক্ষ।

ব্রহ্মপুত্র পাড়ের বাসিন্দাদের দাবি, বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে ধস রোধে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে চলমান বন্যা মৌসুমে উপজেলা শহরসহ হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়তে পারে। শত শত হেক্টর আবাদি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে আমনসহ স্থানীয় কৃষিতে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, তীর রক্ষা বাঁধের ৬০ মিটার অংশে ধস দেখা দিয়েছে। বাঁধটির ওই স্থান বেশ দুর্বল কাঠামোর ওপর নির্মিত। ওই অংশে প্রায়ই ধস দেখা দেয়। তীররক্ষা বাঁধের ধস শুরু হওয়ার খবরে জরুরি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে পাউবো কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে তীর রক্ষা বাঁধে তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। একের পর এক ব্লক ও জিও ব্যাগ ধসে যেতে থাকে। বড় অংশজুড়ে ধস ছড়িয়ে পড়ে। মূল ভাঙন এলাকা ছাড়াও এর উভয় দিকে বিভিন্ন স্থানে ব্লক স্থানচ্যুত হয়েছে। আকস্মিক এই ভাঙনে কাঁচকোল সড়কটারী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

কাঁচকোল এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নদীত পানি বাড়ন্ত। এর মধ্যে বাঁধে ধস শুরু হইছে।  ভেতর ভয়ে কাঁপতেছে। এই বাঁধ ছুটি গেইলে বাড়িঘর, আবাদি জমি সউগ তলে যাইবে। যে হারে ধস নামছে তাতে শেষ রক্ষা হইবে কিনা জানি না।’

এই বাসিন্দা আরও বলেন, ‘দুই সপ্তাহ আগে একই জায়গায় ধস শুরু হইছিল। কয়টা বালুর বস্তা ফেলে কোনও রকমে ঠেকাইছে। কী কাজ করিল যে ফের ধস নামা শুরু হইলো! পোক্ত কাজ না করলে বাঁধও যাইবে, মানুষের বাড়িঘরও যাইবে।’

বাঁধ সংলগ্ন বাসিন্দা আঞ্জুআরা বলেন, ‘এই বাঁধ ছুটি গেইলে মাইনসের ঘরবাড়ি কিছু থাকবার নয়। দিনত নাহয় দেখি থাকি। কিন্তু রাইতে যদি ভাঙি যায় তাইলে তো বাচ্চাকাচ্চা নিয়া ভাসি যাওয়া লাগবে। আমরা চাই বাঁধটা যেন ভালো করি মেরামত করি দেয়। আমরা যেন নিশ্চিন্তে বাস করবার পাই।’

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ফের ধস দেখা দেওয়ার কারণ হিসেবে পাউবো বলছে, কাঁচকোল এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের তীররক্ষা বাঁধটি ২০১৬ সালে করা। বাঁধের ওই স্থানটির নকশা ও কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে। তখন যে ডিজাইনে তীর সংরক্ষণ কাজ করা হয়েছে তাতে ডাম্পিংয়ে ব্লক ও জিও ব্যাগের ঘনত্ব কম ছিল। ফলে প্রায়ই ধস দেখা দেয়। আর তখন জরুরি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বছরও একই সমস্যা দেখা দিয়েছে।

তীররক্ষা বাঁধে ধসের বিষয়টি নিশ্চিত করে পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘ইতিমধ্যে সেখানে জরুরি প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু করা হয়েছে। বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে স্থানটির ধস বন্ধ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ধস না ঠেকানো পর্যন্ত কাজ চলবে। ঝুঁকি মুক্ত করে আমরা ওখান থেকে বের হয়ে আসবো।’

‘আবার ধস দেখা দেওয়ায় ওই স্থানে ১২ হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে। বাঁধের ওই স্থানটি নতুন করে স্থায়ী মেরামত করার জন্য প্রকল্প তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে নতুন করে স্থায়ী সংরক্ষণ কাজ করা হবে,’ যোগ করেন এই প্রকৌশলী।