রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিতদের ছবিসংবলিত একটি বিলবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছাত্রদলের আশিক নামে এক নেতাকে গুরুতর অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্বাধীনতা স্মারক মাঠে আয়োজিত প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীরা জানান, জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষে ক্যাম্পাসে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে ছাত্রশিবির। সেখানে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মীর কাসেম আলী, মতিউর রহমান নিজামী, আব্দুল কাদের মোল্লা, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি প্রদর্শন করা হয়। খবর পেয়ে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গিয়ে ব্যানারটি সরাতে বলেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ছাত্রদলের সহসভাপতি নীরবসহ কয়েকজন শিবিরের এক কর্মীকে লাথি মারেন। পরে গাছের ডাল ভেঙে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা করেন। এ সময় শিবির নেতা মেহেদী হাসানকে স্টাম্প দিয়ে মারধর করা হয়।
এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক মাঠে অবস্থান নেন শিবিরের নেতাকর্মীরা। আর মূল ফটকের দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে ছাত্রদলের সঙ্গে শিবিরের সংঘর্ষ হয়। শুরু হয় দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। সংঘর্ষে দুই পক্ষই লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শওকত আলী ও প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান ঘটনাস্থলে এসে দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও উত্তেজনা কমেনি। এর মধ্যে বস্তায় ভরে ভাঙা ইট নিয়ে আসেন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক মাসুদ রানা। একপর্যায়ে তিনি শিবির নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে শিবির নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল ছুড়লে একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান এবং দুই পক্ষের ২০ জন আহত হন।
এ ব্যাপারে শাখা ছাত্রদলের নেতা জহির রায়হান বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ বেরোবি শিক্ষার্থী আবু সাঈদের ক্যাম্পাসে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিতদের ছবিসংবলিত একটি বিলবোর্ড টানিয়েছে শিবির। এর প্রতিবাদ করায় ছাত্রদলের নেতা আশিকের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেছে।’
ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতা মেহেদী হাসান বলেন, ‘ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে আমাকে আহত করেছে। আমরা পোস্টার লাগিয়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু ছাত্রদল সুন্দরভাবে বলতে পারতো, আমরা সরিয়ে নিতাম। কিন্তু তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের ছয়-সাত জন আহত হন।’
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করা হবে। তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’