বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর ভারতীয় নাগরিককে ধরে আনলেন গ্রামবাসী

পঞ্চগড়ের বিরাজোত সীমান্ত থেকে তমিজ উদ্দিন (৭৮) নামের এক বাংলাদেশিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আটক করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। এর প্রতিবাদে একই সীমান্ত এলাকা থেকে দীপঙ্কর গোপ (৩৫) নামের ভারতের এক নাগরিককে আটক করে বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার একটি গ্রামে নিয়ে এসেছেন স্থানীয় লোকজন।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের বিরাজোত এলাকায় ৭৪২ নম্বর মেইন পিলারের ১২ নম্বর সাব পিলারের কাছ থেকে দীপঙ্করকে ধরে আনা হয়। তিনি বাংলাদেশি এক কৃষকের আখক্ষেতে আখ খেতে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

এর আগে গত বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিরাজোত সীমান্ত এলাকায় নিজেদের দলছুট একটি গরু খুঁজতে গিয়ে তমিজ উদ্দিনকে আটক করে নিয়ে গেছে বিএসএফ। এ ঘটনায় শনিবার বিকালে মাগুরমারী সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মাগুরমারী বিওপি ও বিএসএফের চাউলহাটি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়। তবে বৈঠকে কোনও সমাধান হয়নি।

তমিজ উদ্দিন সাতমেরা ইউনিয়নের বিরাজোত এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে স্থানীয় লোকজনের হাতে আটক দীপঙ্কর গোপ ভারতের জলপাইগুড়ির চাউলহাটি-তসরপাড়া এলাকার মিশ্রিলাল গোপের ছেলে। তিনি চা-বাগানের শ্রমিক বলে জানা গেছে।

বিজিবি ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বুধবার সকালে তমিজ উদ্দিন গরুর পাল নিয়ে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ঘাস খাওয়াতে যান। এ সময় একটি গরু সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের ভূখণ্ডে চলে যায়। গরুটিকে ফেরত আনতে পিছু নিয়ে তমিজ উদ্দিনও ভারতের ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েন। তখন বিএসএফের সদস্যরা তাকে আটক করে নিয়ে যান।

তমিজ উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর তারা বিষয়টি বিজিবির অমরখানা বিওপির সদস্যদের জানান। এরপর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও তমিজ উদ্দিনকে ফেরত আনা সম্ভব হয়নি।

তমিজ উদ্দিনের ছেলে আজাহার আলী বলেন, ‘আমার বাবা বয়স্ক মানুষ। ভালোভাবে হাঁটতে পারেন না, কানেও ভালো শোনেন না। আমাদের গরু ওই পাশে চলে গিয়েছিল। ওই গরু ফেরত আনতে গেলে বিএসএফ তাকে ধরে নিয়ে গেছে। আজকে ভারতের লোক বাংলাদেশে পেয়ে আমরা আটক করে নিয়ে এসেছি। বিজিবি আমাদের বলছে, বাবাকে নাকি ভারতে চালান করে দেওয়া হয়েছে। আমার বাবাকে আগে ফেরত দেবে, তাহলে আমরাও ভারতের লোককে ফেরত দেবো।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে বিরাজোত সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় কৃষক ফয়জুল ইসলামের আখক্ষেতে আখ খেতে আসেন দীপঙ্কর গোপ। স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে গ্রামের ভেতরে নিয়ে আসেন। পরে বিষয়টি বিজিবির অমরখানা বিওপির সদস্যদের জানানো হয়। খবর পেয়ে বিজিবি ও পঞ্চগড় সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। শনিবার রাত সোয়া ৮টা পর্যন্ত দীপঙ্করকে বিরাজোত এলাকায় রাখা হয়েছে। সেখানে স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরাও অবস্থান করছেন।

স্থানীয় লোকজনের দাবি, তমিজ উদ্দিনকে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত তারা দীপঙ্করকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করবেন না।

নীলফামারী ৫৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাইফুর হাসান মাহমুদ বলেন, ‌‘বাংলাদেশি কোনও ব্যক্তিকে বিএসএফ ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে স্থানীয় লোকজন বিজিবিকে জানাননি। তবে শনিবার সকালে বাংলাদেশি একটি আখক্ষেতে আখ খাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন ভারতের এক নাগরিককে আটক করেন। বিষয়টি বিএসএফের পক্ষ থেকেও বিজিবিকে জানানো হয়েছে।’

লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাইফুর হাসান মাহমুদ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের নাগরিককে আটকের বিষয়ে বিএসএফের কাছে জানতে চাওয়া হয়। বিএসএফ জানিয়েছে, তারা এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন, তবে তিনি নাকি চোরাকারবারিদের মধ্যে একজন। এমনকি ওই ব্যক্তিকে তারা ইতিমধ্যে ভারতীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। বিষয়টি আমরা গভীরভাবে মনিটরিং করছি।’

এ নিয়ে শনিবার বিকালে বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বিএসএফ বাংলাদেশি নাগরিককে সেদেশের পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে বলে জানায়। এ সময় বিজিবি সেই ডকুমেন্টস দেখতে চাইলে বিএসএফ জানায় তাদের নাগরিককে ফেরত দিলে ডকুমেন্টস দেখাবে।