নিখোঁজ হওয়ার ১৫ বছর পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে ভারতের কলকাতা থেকে দেশে ফিরেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের আনজু বেগম। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর মেয়েকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আনজুর মা জোসনা বেগম।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ভোমরাদহ ইউনিয়নের বাসিন্দা আনজু প্রায় ১৫ বছর আগে মানসিক অসুস্থতার কারণে নিখোঁজ হন। পরে কোনও একসময় সীমান্ত অতিক্রম করে তিনি ভারতে চলে যান। দীর্ঘদিন তার কোনও সন্ধান পায়নি পরিবার।
২০১৭ সালে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনজুর সন্ধান মেলে। পরে কলকাতার মানবিক সহায়তা সংস্থা ‘ঈশ্বর সংকল্প’-এর আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনজুর দেওয়া বিক্ষিপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রযুক্তি ও মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান চালিয়ে তার পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়।
আনজুর পরিবারের সন্ধান পাওয়ার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মো. শামসুল হুদা। পরে তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে জটিল আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় অ্যামেচার রেডিও সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং রোটারি ক্লাব অব বনানী ঢাকা সহযোগিতা করে।
দেশে ফেরার অনুভূতি জানিয়ে আনজু বেগম বলেন, ‘বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি। আমি কীভাবে ভারতে গিয়েছি, তা মনে করতে পারছি না। দেশে ফিরে খুব ভালো লাগছে। আমার শেষ জীবনটা বাংলাদেশেই কাটাতে চাই।’
মেয়েকে ফিরে পেয়ে আনজুর মা জোসনা বেগম বলেন, ‘১৫ বছর পর আমার মেয়েকে পেয়ে আমি খুব খুশি। ১৫ বছর আগে বাড়ি থেকে আনজু হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে কোথাও পাইনি। একসময় হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে আবার মেয়েকে ফিরে পেয়েছি।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নারী ও শিশু উন্নয়ন দফতর, কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশন, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সামাজিক সংস্থাগুলোর ধারাবাহিক সমন্বয়ের মাধ্যমে আনজুর জাতীয়তা যাচাই ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
অ্যামেচার রেডিও সোসাইটি অব বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকার রোটারি ক্লাব অব বনানীর সদস্য মো. শামসুল হুদা বলেন, ‘বুধবার বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি, বিএসএফ, পুলিশ, স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনজুকে তার মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়।’








