গাইবান্ধায় প্রায় এক হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
তিনি বলেন, দেশে গত ছয় মাসে এক হাজার ৪০০ নদী ও খাল খনন, পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। আগামী চার বছরের জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৯৬টি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধার জন্য রয়েছে প্রায় এক হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি বড় প্রকল্প।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে গাইবান্ধায় নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে সরকার। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে গাইবান্ধায় নদীভাঙন অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
শনিবার বিকালে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীতীরবর্তী উড়িয়া ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
স্পিডবোটে নদীভাঙনের পরিস্থিতি সরেজমিনে ঘুরে দেখেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি নদীতীরবর্তী মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং ভাঙনকবলিত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। পরে আয়োজিত পথসভায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
দুর্নীতি প্রতিরোধের প্রসঙ্গেও কড়া বক্তব্য দেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্নীতিকে জিরো টলারেন্সে নিয়ে যেতে না পারলেও সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনবে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে অতীতে যে ধরনের দুর্নীতি হয়েছে, বর্তমান সরকারের সময়ে তার কোনও সুযোগ থাকবে না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরের দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপকর্ম মাত্র পাঁচ মাসে পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। এজন্য সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
একদিনের সরকারি সফরে গাইবান্ধার বিভিন্ন নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে ফুলছড়ির ফজলুপুর ও এরেন্ডাবাড়ী এবং সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া এলাকা রয়েছে।
এ ছাড়া সদর উপজেলার চিঘুলিয়া, দিগড় ও জিগাবাড়ী চর এলাকায় যমুনা নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি।
পরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ও লালচামার এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণ ও নদী শাসন কম্পোনেন্ট-১ প্রকল্পের কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে কুড়িগ্রাম সফরে চিলমারী উপজেলার রমনা নৌঘাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন তিনি। পরে কাচকোল, নামাজের চর, সুখেরবাতি ও রাজীবপুরের কোদালকাটি এলাকা পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রীর সফরকালে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুননবী টিটুলসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।
নদীভাঙনে প্রতি বছরই নিঃস্ব হচ্ছে গাইবান্ধার নদীতীরবর্তী মানুষ। ভাঙনের কবল থেকে ঘরবাড়ি, হাটবাজার, মসজিদ-মন্দির ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রক্ষায় এবার নেওয়া হচ্ছে বড় উদ্যোগ।
প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে নদীতীরবর্তী হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে—এমনই আশা করছেন ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষজন।