রংপুর নগরীর মাসুয়াপাড়া মহল্লায় সদ্য অবসরে যাওয়া শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি থানা থেকে রংপুর মহানগর ডিবি পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। মহানগর ডিবি পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, আমরা মামলার নথিপত্র পেয়েছি। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা হবে।
এদিকে, মামলার বাদী গণপতির বড় ভাই গোপিনাথ চক্রবর্তী বলেছেন, এ ঘটনার পেছনে বড় কোনও শক্তি আছে। আড়ালের হোতাদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। তিনি মামলার বিচার পাওয়া নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।
গোপিনাথ চক্রবর্তী বলেন, এ ঘটনায় ওপর মহলের হাত রয়েছে। দুইজন মিলে চারজনকে খুন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রশাসন যদি ব্যর্থতার পরিচয় দেয়, আমাদের কিছুই করার থাকবে না। আমাদের কোনও ক্ষমতা নেই।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে গণপতিসহ পরিবারের নিহত ৪ সদস্যের শ্রাদ্ধ ও প্রার্থনা সভায় অংশ নিয়ে গোপিনাথ আরও বলেন, আমরা পুরো পরিবার হতাশ, ক্ষুব্ধ। পুলিশ কী করছে? কাকে গ্রেফতার করছে? আমি বলবো, এর পেছনে বড় কোনও শক্তি আছে। গণপতি চক্রবর্তী খুই ভালো মানুষ ছিল। তার কোনও শক্র থাকতে পারে, আমি মনে করি না। আমি মামলা করেছি ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায়। পুলিশকেই ভালোভাবে তদন্ত করে খুনিদের গডফাদারদের চিহ্নিত করতে হবে। তা না হলে আমাদের নীরবে অশ্রু বিসর্জন দেওয়া ছাড়া কিছুই করার থাকবে না।
এ সময় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর ভাতিজি তৃষ্ণা তালুকদার কান্না করতে করতে বলেন, আমরা চাই, সঠিক তদন্ত হোক। নির্দোষ কেউ যেন অকারণে শাস্তি না পায়। তাদের হত্যার পেছনে একটি চক্র জড়িত, কোনোভাবেই দুই জনের দ্বারা এ নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা একটা কবুতর জবাই করতে পারি না, হাত কাঁপে। আর তারা এটা কীভাবে করলো?
রংপুর পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি পুরোহিত ধিমান চক্রবর্তী বলেন, আমার বিশ্বাস এ ঘটনার সঙ্গে বড় কোনও চক্র জড়িত আছে। যে দুজনকে পুলিশ ধরেছে, তারা তো স্বীকার করেছে শুনছি। তবে আরও কারা আছে, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড—এটা বের করা দরকার।
প্রার্থনা সভায় রংপুর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, সাবেক শিক্ষক শফিয়ার রহমান, সাবেক শিক্ষকশিক্ষার্থী ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ শত শত মানুষ অংশ নেন। তারা এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। সেইসঙ্গে হত্যাকাণ্ড নিয়ে নানান নাটক চলছে অভিযোগ করে, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।