বিয়ের পরদিন বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ শিক্ষক, কলাবাগানে পড়েছিল লাশ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর আবু সালেম প্রধান (২৮) নামে এক স্কুলশিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার সাপগাছি-হাতিয়াদহ এলাকার একটি কলাবাগান সংলগ্ন গাছ থেকে গলায় লুঙ্গি প্যাঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

নিহত আবু সালেম প্রধান গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের মধ্য মীরপাড়া গ্রামের ইশাহাক প্রধানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার কাটাখালী বালুয়াহাট এলাকায় অবস্থিত ইউনিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাপগাছি-হাতিয়াদহ এলাকার একটি কলাবাগান সংলগ্ন গাছে একটি মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। 

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার পারিবারিকভাবে আবু সালেমের বিয়ে হয়। বিয়ের পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে বালুয়া বাজারের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি। রাতে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনও সন্ধান পাননি। পরদিন কলাবাগান থেকে মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তারা। 

স্বজনদের দাবি, তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে পরিবারের এ দাবির সত্যতা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। নিহতের চাচাতো ভাই কহিদ মিয়া মরদেহটি আবু সালেম প্রধানের বলে শনাক্ত করেছেন। 

ওসি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। 

এদিকে, স্কুলশিক্ষক আবু সালেম প্রধানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয় শিক্ষকের আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুতে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা গভীর শোক প্রকাশ করেন।