মালয়েশিয়ায় উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার নামে ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় করা মামলায় ময়মনসিংহ থেকে এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে খুলনা পিবিআই। এরপর আদালতে হাজির করা হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় গ্রেফতার পলাশ আলী নামের ওই ব্যক্তি।
মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে পিবিআই জানিয়েছে, খুলনার লবণচরা থানার ঠিকরাবাদ এলাকার আলাউল কবির খাঁয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় পলাশ আলীর। পলাশ উচ্চ বেতনে মালয়েশিয়ায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখালে আলাউল কবির তার ছয় জন নিকটাত্মীয়কে বিদেশে পাঠানোর জন্য কথা বলেন। পলাশ প্রত্যেককে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর জন্য ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা চায়। সেই সঙ্গে ভিসা ও অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুতের জন্য অগ্রিম টাকা দাবি করলে আলাউল কবির বিভিন্ন তারিখে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ১৭ লাখ টাকা দেন।
পরবর্তী সময়ে পলাশ চাকরি প্রার্থীদের ঢাকায় নিয়ে মেডিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন করে গত ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর আশ্বাস দেয়। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও তাদের বিদেশে পাঠায়নি এবং বিভিন্নভাবে কালক্ষেপণ করতে থাকে। সর্বশেষ গত ১৫ আগস্ট আলাউল কবিরের বাড়িতে এসে চাকরি প্রার্থীদের মালয়েশিয়ায় পাঠাতে পারবে না এবং গ্রহণকৃত টাকাও ফেরত দিতে পারবে না জানিয়ে পলাশ উধাও হয়ে যায়। এরপর আলাউল কবির বাদী হয়ে পলাশ আলীসহ দুজনের বিরুদ্ধে লবণচরা থানায় একটি প্রতারণা মামলা করেন।
মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পলাশ আলীর অবস্থান শনাক্ত করে। তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ পিবিআই খুলনার একটি দল ২৭ আগস্ট রাত পৌনে ২টার দিকে ময়মনসিংহ জেলার সদর থানার গোলপুকুরপাড়স্থ কর অঞ্চল ভবন থেকে পলাশ আলীকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পলাশ অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করে। পরবর্তীতে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।
পিবিআইয়ের তদন্ত এবং গ্রেফতার আসামির জবানবন্দি থেকে জানা যায়, পলাশ উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বললে বাদী তার আত্মীয়দের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর জন্য পলাশের ব্যাংকের হিসাবে ১৭ টাকা দেন। কিন্তু পলাশ তাদের মালয়েশিয়ায় না পাঠিয়ে ওই টাকা আত্মসাৎ করে উধাও হয়ে যায়।
পিবিআইয়ের খুলনার পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বলেন, আর্থিক অস্বচ্ছলতার সুযোগ নিয়ে উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে অর্থ আত্মসাৎকারী প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে পিবিআই জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। এই মামলার সঙ্গে জড়িত এজাহারনামীয় অন্য আসামিদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করবো, আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হয়ে সচেতন থাকুন এবং প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করুন।

বিয়ের পরদিন বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ শিক্ষক, কলাবাগানে পড়েছিল লাশ






