বাংলাদেশে প্রথমবার ট্রেনে ভ্রমণ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ের সেন্ট্রাল লোকোমোটিভ ওয়ার্কশপ পরিদর্শন শেষে ট্রেনে চড়ে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলস্টেশনে যান তিনি। পরে ট্রেন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশ রেলওয়েতে ব্যবহৃত মার্কিন প্রযুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘আমি মাত্রই বাংলাদেশ রেলওয়েতে আমার জীবনের প্রথম ভ্রমণ সম্পন্ন করলাম। এটি চমৎকার ভ্রমণ ছিল। আমি ট্রেনে ভ্রমণ করতে খুবই ভালোবাসি। বিশ্বের নানা দেশে ট্রেনে ভ্রমণ করেছি। তবে এই ভ্রমণ খুবই বিশেষ ছিল; কারণ যুক্তরাষ্ট্র শুরুর দিক থেকেই বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে ট্রেনে যে লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিনটি ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান প্রোগ্রেস রেলের তৈরি।’
সৈয়দপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপ পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আজ দুপুরে আমি পার্বতীপুরের সেন্ট্রাল লোকোমোটিভ ওয়ার্কশপ পরিদর্শন করেছি। সেখানে দেখলাম, কীভাবে বাংলাদেশ রেলওয়ের নিবেদিতপ্রাণ প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান ও কর্মীরা এখানকার যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি দেখলাম যুক্তরাষ্ট্রের লোকোমোটিভগুলো বছরের পর বছর ধরে সেবা দিয়ে আসছে এবং এখনও বাংলাদেশের মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।’
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত অংশীদারত্বের বিষয়ে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘আমাদের এই অংশীদারত্বের মূল বিষয়ই হলো যুক্তরাষ্ট্রের চমৎকার প্রযুক্তি এবং এর সঙ্গে বাংলাদেশিদের দক্ষতা ও নিষ্ঠার সমন্বয়। প্রোগ্রেস রেল, ওয়েবটেকসহ আরও অনেক আমেরিকান প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখতে অত্যন্ত আগ্রহী। আমি আশা করি, আমার এই সফর সেই প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করতে সাহায্য করবে।’
তিন দিনের উত্তরবঙ্গ সফরের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সৈয়দপুরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সকালে স্ত্রী ডিন ডাওকে সঙ্গে নিয়ে সৈয়দপুরের ঐতিহাসিক লোকায়ন জীবনবৈচিত্র্য জাদুঘর পরিদর্শন করেন তিনি। পরে সৈয়দপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপ ও রেলওয়ে জাদুঘর পরিদর্শন করেন। এরপর ঐতিহাসিক চিনি মসজিদ ও ক্যাথলিক চার্চ ঘুরে দেখেন তিনি।
রাষ্ট্রদূতের সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন তার স্ত্রী ডিন ডাও, মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা নিকোল ক্ল্যারিসা বেসনার্ড, সৈয়দ ফাইজুস সালেহিন ও ফিরোজ আহমেদ।
এ সময় সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক শাহ সুফী নূর মোহাম্মদ, নীলফামারীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) ওহিদুর নবীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আজ রাত পৌনে ৯টায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের।