সার নিয়ে ‘সুখবর’, সংকটের গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা

কুড়িগ্রামের একাধিক স্থানে সার বিতরণ নিয়ে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় কৃষকদের সার ক্রয়ের সুবিধার কথা বিচেনায় নিয়ে বিতরণ কেন্দ্রের সংখ্যা বড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। ইউনিয়নের একটি ডিলার পয়েন্টের সাথে এবার প্রতি ওয়ার্ডে কৃষি বিভাগের তালিকাভুক্ত সার বিক্রেতাদের কাছে খুচরা সার কিনতে পারবেন কৃষকরা। এই সুবিধাকে কৃষকদের জন্য ‘সুখবর’ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে কৃষকদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় জেলা প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে, কুড়িগ্রামে পর্যাপ্ত সারের মজুত রয়েছে। অযথা আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার কিনে জমা করতে বারণ করা হয়েছে। অবৈধভাবে সার মজুত কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে কিংবা গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

কৃষি বিভাগ বলছে, ডিলার পয়েন্টে অতিরিক্ত চাপ ও বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় জেলার ৯ উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে সার বিক্রি শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রতিটি ওয়ার্ডে কৃষি বিভাগের তালিকাভুক্ত নির্দিষ্ট খুচরা বিক্রেতার কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার নিতে পারবেন কৃষকরা। বুধবার থেকে এই সুবিধা চালু হয়েছে। ফলে কৃষককে আর ডিলার পয়েন্টে যেতে হবে না। তারা নিজ নিজ ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় সার নিতে পারবেন। এই সিদ্ধান্তের পর পরিস্থিতির উন্নতির প্রত্যাশা করছেন কৃষকরা।

ডিলার পয়েন্টে সার নিতে যাওয়া কয়েকজন কৃষক বলেন, সার নিতে সারাদিন যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনত দাঁড়ে থাকা লাগে। দিনের আয় রোজগার বন্ধ হয়। খোলাবাজারে সার বিক্রি করা হলে কোনো ঝামেলা ছাড়া সার পাওয়া যাইবে। তখন ভিড়ও হবার নয়। সার নিয়া তারাতারি যাওয়া যাইবে।

জেলায় সার নিয়ে প্রথম আলোচনায় আসা ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বিসিআইসি অনুমোদিত একাধিক সার ডিলারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ইউনিয়নভিত্তিক ডিলার হওয়ায় একটি ডিলার পয়েন্টে নির্ধারিত কৃষকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সংখ্যক কৃষক সারের জন্য ভিড় করছেন। নির্ধারিত ওয়ার্ডের কৃষকদের সার ক্রয়ের দিনে অন্য ওয়ার্ডের কৃষকরাও আসছেন। এতে বরাদ্দ সংকুলান হচ্ছে না। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। ওয়ার্ড ভিত্তিক খুচরা বিক্রির সিদ্ধান্ত এই সমস্যার সমাধান করবে বলে মনে করছেন ডিলাররা।

ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ‘মেসার্স এম এ গফুর’ নামে সার ডিলারের প্রতিনিধি রিমন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সারের ঘাটতি কিংবা সংকট নেই। বরং এ বছর বরাদ্দ কিছুটা বেশি। কিন্তু এক ডিলার পয়েন্টে সার বিতরণের কারণে সব কৃষক ভিড় করেন। তখন বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এখন ওয়ার্ড ভিত্তিক খুচরা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়ার এই সমস্যা থাকবে না বলে মনে করি।’

একই মত উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের সার ডিলারের প্রতিনিধি শাহীনের। তিনি বলেন, ‘বরাদ্দ ঠিক আছে। কিন্তু যে কৃষকের ১০ কেজি সার লাগে সেও ১ বস্তা সার নিতে আসে। আবার কেউ কেউ বারবার সার নেন। অনেকটা হুজুগের মতো সবাই এক পয়েন্টে ভিড় করেন। ওয়ার্ড ভিত্তিক বিক্রির সিদ্ধান্তে এই পরিস্থিতি আর থাকবে না। তবে এই সিদ্ধান্ত আরও আগে নিলে আগের ঘটনাগুলো এড়ানো যেতো।’ 

কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষকদের সার না পাওয়ার মতো কোনও পরিস্থিতি নেই। আমন ধানে ইউরিয়া সার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা শেষ পর্যায়ে। আসছে রবি মৌসুমে ভূট্টা ও আলু এবং শীতকালীন সবজি চাষকে সামনে রেখে অক্টোবর-নভেম্বরে আরও বরাদ্দ বাড়ানো হবে। এ অবস্থায় সার নিয়ে আতংকিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সারের কোনও সংকট নেই। এলাকাভিত্তিক মাসিক চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সার রয়েছে। বরং বিগত বছরের চেয়ে বেশি বরাদ্দ রয়েছে। অনেকে সার সংকটের গুজবে কান দিয়ে রবি মৌসুমের আগাম মজুতের জন্য সার কেনার চেষ্টা করছেন। চরাঞ্চলের কৃষকরা ভাবছেন হয়তো ভুট্টা কিংবা আলু চাষে সারের সংকট হতে পারে। এজন্য অতিরিক্ত সার সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। সংকটের সম্ভাবনা নেই। রবি মৌসুমকে সামনে রেখে আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরে বরাদ্দ আরও বাড়বে।’

জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সারের পর্যাপ্ত বরাদ্দ রয়েছে। সার সংকটের কোনও সুযোগ নেই। ডিলার পয়েন্টে অতিরিক্ত চাপ কমাতে কৃষি বিভাগের তালিকাভুক্ত খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে সার বিক্রি শুরু করা হয়েছে। এতে করে কৃষকরা সহজে খুচরা বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পাবেন। বিষয়গুলো মনিটরিংয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনও এবং কৃষি বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’