রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অনুমোদিত সীমার বাইরে বিপুল পরিমাণ সার মজুত রাখার অভিযোগে সোলাইমান পাটোয়ারী নামের এক সার ডিলারকে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তার গুদাম থেকে ২০০ বস্তা এমওপি ও ৩০০ বস্তা টিএসপি সার উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে গোদাগাড়ী সদরের ডাইংপাড়ায় মেসার্স কৃষি ঘর নামের এই প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালানো হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান এ অভিযান পরিচালনা করেন।
উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, সোলাইমান পাটোয়ারী বিসিআইসি ও বিএডিসির সার ডিলার। সার মজুত ও বিক্রির বিষয়ে গত দুই মাসে তাকে তিনবার সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও নিয়ম না মেনে বিপুল পরিমাণ সার গুদামে মজুত রাখায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গোদাগাড়ীর ইউএনও ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান বলেন, “কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিলারদের গুদাম ও বিক্রয়কেন্দ্রে তদারকি করা হচ্ছে। এতে দেখা যায়, কৃষি ঘরে যে পরিমাণ সার মজুত থাকার কথা, বাস্তবে তার চেয়েও বেশি আছে। এ জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতে ডিলারকে একমাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।” কেউ অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা কৃষকদের হয়রানি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ইউএনও।
অপরদিকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী জানিয়েছেন, রাজশাহীতে সারের কোনও সংকট নেই। কৃষকদের চাহিদা মেটাতে সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে। তার ভাষ্য, বর্তমানে যে পরিমাণ সার মজুত আছে, তা জেলার মাসিক চাহিদার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। সার নিয়ে বাইরে ছড়ানো সংকটের খবরকে তিনি বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছেন। কৃষকদের সার নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে আসন্ন আমন ও বোরো মৌসুম সামনে রেখে সারের মজুত পরিস্থিতি দেখতে নগরের নওদাপাড়া এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সার গুদাম পরিদর্শন শেষে বিভাগীয় কমিশনার এসব কথা বলেন।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বিসিআইসির বাফার গুদামে বর্তমানে ৯ হাজার ৮০৪ টন ইউরিয়া, ৪৩০ টন টিএসপি ও ৮৫ দশমিক ৫ টন ডিএপি সার মজুত রয়েছে। অপরদিকে বিএডিসির গুদামে রয়েছে ৬ হাজার ৩১২ টন টিএসপি, ৮০১ টন এমওপি ও ৪ হাজার ৩৪৮ টন ডিএপি সার।
তিনি বলেন, “চলতি মাসে টিএসপি সারের বরাদ্দ ১ হাজার ৪৫ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে গুদামে মজুত রয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন। একইভাবে চলতি মাসে জেলার জন্য ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ৫ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন হলেও একটি গুদামেই প্রায় ১০ হাজার টন ইউরিয়া মজুত রয়েছে।”
ইউসুফ আলী বলেন, “সারের কোনও ক্রাইসিস নেই। গুদামে পর্যাপ্ত সার আছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ অনুযায়ী নিয়মিতভাবে ডিলারদের কাছে সার সরবরাহ করা হচ্ছে এবং তারা দোকানে বিক্রি করছেন।”
সার সংকটের আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাইরে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানোর কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। গুদামে সারের মজুত সবার সামনেই দৃশ্যমান। এখানে লুকানোর কিছু নেই।”
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, “ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষকদের যতটুকু সার প্রয়োজন, সরকারের কাছে তার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।” তাই সার নিয়ে কোনো ধরনের গুজবে কান না দিতে এবং আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।









