দুই ছেলের মারামারি থামাতে গিয়ে বাবার মৃত্যু

রংপুরের কাউনিয়ায় দোকানে বসাকে কেন্দ্র করে দুই ছেলের মারামারি থামাতে গিয়ে মহির উদ্দিন (বৃদ্ধ) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের দাবি, চোখের সামনে দুই ছেলের মারামারি দেখে অসুস্থ হয়ে তিনি মারা যান।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের বল্লভবিষু গুলশান মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, মহির উদ্দিন তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও দুই ছেলে মাইদুল ইসলাম ও রশিদুল ইসলামকে নিয়ে গুলশান মোড় এলাকায় থাকতেন। ছোট ছেলে রশিদুল মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় কয়েক দিন ধরে তাকে মুদি দোকানে বসতে দিচ্ছিলেন না মহির উদ্দিন ও বড় ছেলে মাইদুল। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল।

বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে রশিদুল দোকানে এসে ক্যাশ থেকে টাকা নিতে গেলে মাইদুল তাকে বাধা দেন। এ নিয়ে প্রথমে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তারা মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন।

এ সময় উপজেলা সদরবাজার থেকে দোকানের মালামাল নিয়ে সেখানে আসেন মহির উদ্দিন। দুই ছেলের মারামারি দেখে তিনি তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে মারামারি সহ্য করতে না পেরে তিনি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান।

পরে বড় ছেলে ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কাউনিয়া থানার ওসি সিহাব উদ্দিন বলেন, স্বজনরা জানিয়েছেন, দুই ছেলের মারামারি দেখে সহ্য করতে না পেরে মহির উদ্দিন অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। তবে এ ঘটনায় তার স্বজনরা থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দেননি।

ওসি আরও জানান, নিহতের এক ছেলে খবর পেয়ে আসতে দেরি করায় মরদেহ কয়েক ঘণ্টা হাসপাতালেই ছিল। রাত সোয়া ৯টার দিকে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে যান। রাতেই জানাজা শেষে দাফন করার কথা জানিয়েছেন তারা।