১১০ বছর ছড়াচ্ছে মুগ্ধতা, কারমাইকেল কলেজে কারা পড়েছে জানেন?

দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রংপুরের কারমাইকেল কলেজ। দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীর মূল ভবন, সবুজে ঘেরা বিশাল ক্যাম্পাস আর দীর্ঘ শিক্ষার ইতিহাস প্রতিষ্ঠানটিকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন দর্শনার্থীরা আসেন কলেজটির ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখতে। বিদেশি পর্যটকরাও এসে মূল ভবনের স্থাপত্যশৈলী, বিশেষ করে গম্বুজের নির্মাণকৌশল দেখে মুগ্ধ হন। শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি ব্রিটিশ আমল থেকে এই অঞ্চলের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসেরও সাক্ষী কারমাইকেল কলেজ।

১৯১৬ সালের ১০ নভেম্বর তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার গভর্নর লর্ড থমাস ডেভিড ব্যারন কারমাইকেল এই ঐতিহাসিক কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তার নামানুসারেই কলেজের নামকরণ করা হয় কারমাইকেল কলেজ। প্রতিষ্ঠার ১১০ বছর পেরিয়ে আজও ঐতিহ্য ও স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর এই কলেজে শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ ও আবাসন সংকট আছে এখনও।

যেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়

১৯১৩ সালে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার গভর্নর লর্ড থমাস ডেভিড ব্যারন কারমাইকেল রংপুরে এলে তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ অঞ্চলে একটি প্রথম শ্রেণির কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে গভর্নরের সহযোগিতা কামনা করা হয়। তিনি নাগরিকদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে জানান, প্রথম শ্রেণির একটি কলেজ প্রতিষ্ঠায় প্রাথমিকভাবে তিন লাখ টাকা প্রয়োজন হবে।

তার বক্তব্যের পর ১৯১৩-১৪ সালে রংপুরের তৎকালীন জেলা কালেক্টর জে এন গুপ্ত কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তহবিল সংগ্রহের জন্য তিনি রংপুর অঞ্চলের রাজা, জমিদার, বিত্তবান ব্যক্তি ও শিক্ষানুরাগীদের নিয়ে সভা করেন। তার উদ্যোগে সাড়া দিয়ে শীর্ষস্থানীয় জমিদাররা কলেজ প্রতিষ্ঠায় অর্থ সহায়তা দেন।

কুন্ডি, কাশিমবাজার, রাধাবল্লভ, ধর্মপুর, মন্থনা, তুষভান্ডার, মহীপুরের পাঙ্গা, কুড়িগ্রাম, খোলাহাটি ও রসুলপুরসহ বিভিন্ন এলাকার জমিদার, জোতদার, বিত্তবান ও বিদ্যানুরাগী ব্যক্তিরাও এ কাজে দান করেন। কেউ নগদ অর্থ দেন, কেউ অবকাঠামো নির্মাণের জন্য জমি দান করেন। জমি দানের ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিলেন কুন্তির প্রসিদ্ধ জমিদার ও রংপুরের তৎকালীন শিক্ষানুরাগী সুরেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী। তিনি তার ভাইয়ের সঙ্গে মিলে প্রায় সাড়ে চারশত বিঘা নিষ্কণ্টক জমি দান করেন বলে জানা যায়।

ভিত্তিপ্রস্তর ১৯১৬ সালে

গভর্নর কারমাইকেল ১৯১৩ সালে তিন লাখ টাকা সংগ্রহের কথা বললেও ১৯১৬ সালের মধ্যেই সংগৃহীত হয় চার লাখের বেশি টাকা। এরপর ১৯১৬ সালের ১০ নভেম্বর তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার গভর্নর লর্ড থমাস ডেভিড ব্যারন কারমাইকেল রংপুরে এসে কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তার নামানুসারেই প্রতিষ্ঠানের নাম রাখা হয় ‘কারমাইকেল কলেজ’।

প্রতিষ্ঠাকাল থেকে মূল ভবন নির্মাণের আগ পর্যন্ত জেলা পরিষদ ভবনে কলেজের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরে কলেজটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। ১৯১৭ সালে কলা বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক শিক্ষা চালু হয়। ১৯২২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান এবং ১৯২৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক শিক্ষা চালু করা হয়।

১৯৪৭ সাল পর্যন্ত কারমাইকেল কলেজ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল। দেশ বিভাগের পর ১৯৪৭ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। ১৯৯২ সাল পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকার পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর কলেজটি এর অধিভুক্ত হয়।

১৯৬৩ সালের ১ জানুয়ারি কারমাইকেল কলেজ সরকারীকরণ করা হয়। কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৯৯৫ সাল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে পাঠদান বন্ধ করা হয়েছিল। তবে রংপুরবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর থেকে আবার উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে পাঠদান চালু হয়েছে।

দৃষ্টিনন্দন মূল ভবন

কারমাইকেল কলেজের মূল ভবন অনিন্দ্যসুন্দর স্থাপত্যশিল্পের এক অনন্য নিদর্শন। প্রথম দেখাতেই দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কেড়ে নেয় ভবনটি। ১৯১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলার তৎকালীন গভর্নর আর্ল অব রোনাল্ডস মূল ভবন উদ্বোধন করেন।

৬১০ ফুট দীর্ঘ ও ৬০ ফুট প্রশস্ত ভবনটি ইন্দো-সারাসেনিক স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত। এর নির্মাণশৈলীতে বাংলার ইতিহাস ও মোগল স্থাপত্যের প্রভাব স্পষ্ট। ভবনের বিভিন্ন অংশে গম্বুজের ব্যাপক ব্যবহার মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে। শীর্ষে থাকা ছোট ছোট গম্বুজ ভবনের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়েছে।

কার্নিশের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে মারলন অলংকরণের কারুকাজও রয়েছে। সব মিলিয়ে কারমাইকেল কলেজের মূল ভবন শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নয়, এটি রংপুরের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপত্যকীর্তি ও দর্শনীয় স্থান। বছরজুড়েই দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকে এখানে।

ছায়াসুনিবিড় বিশাল ক্যাম্পাস

একসময় রংপুর নগরের কোলাহলমুক্ত পরিবেশে স্থাপিত হলেও সময়ের সঙ্গে শহরের কেন্দ্রের কাছাকাছি চলে এসেছে কারমাইকেল কলেজ। প্রায় ৫০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এর বিশাল ক্যাম্পাস। অজস্র গাছপালায় ঘেরা সবুজ প্রাঙ্গণটি যেন এক প্রাকৃতিক নিসর্গ।

সবুজের সমারোহের মধ্যে সাদা রঙের মূল ভবনটি দূর থেকেই নজর কাড়ে। পাখির ডাক, নিরিবিলি পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ক্যাম্পাসটিকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।

লালবাগহাট থেকে একটি গেট পেরিয়ে মূল ভবনের দিকে চলে গেছে সড়ক। সড়কের দুই পাশে রয়েছে অসংখ্য গাছপালা। কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের বিরল প্রজাতির দুটি গাছও রয়েছে এখানে, যার বৈজ্ঞানিক নাম ‘কাইজালিয়া’। জানা যায়, উপমহাদেশে এ প্রজাতির গাছের সংখ্যা খুবই কম।

ক্যাম্পাসের বড় একটি অংশ কৃষিকাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে। সম্প্রতি কলেজের চারপাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের দক্ষিণে রয়েছে রংপুর ক্যাডেট কলেজ ও রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়; উত্তরে ঐতিহ্যবাহী লালবাগহাট। চারপাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিক্ষার্থীর আবাসিক মেস।

কলেজে প্রবেশের পর হাতের বামে শিক্ষকদের আবাসিক ভবন। কিছুটা এগিয়ে রয়েছে শিক্ষকদের ডরমিটরি, যা ‘হোয়াইট হাউস’ নামে পরিচিত। পাশেই স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কিউএ মেমোরিয়াল প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর পশ্চিমে রয়েছে বিরল প্রজাতির গাছ দুটি।

সামনে রয়েছে চৌরাস্তা বা জিরো পয়েন্ট। ক্যাম্পাসে রয়েছে সুদৃশ্য মসজিদ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, দ্বিতল ছাত্রী বিশ্রামাগার, বিভিন্ন বিভাগীয় ভবন, ক্যান্টিন, আবাসিক হল, শিক্ষক ডরমিটরি, সাব-পোস্ট অফিস, আধুনিক অডিটোরিয়াম, টালি ভবন, ছাত্র বিশ্রামাগার, পুলিশ ফাঁড়ি, প্রশাসনিক ভবন, দুটি বড় খেলার মাঠ ও বৃন্দাবন।

কৃতী শিক্ষার্থীদের স্মৃতি

কারমাইকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত বহু গুণীজন। তাদের মধ্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর, সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান, সাহিত্যিক আনিসুল হক, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন্নবী খান সোহেলসহ অসংখ্য কৃতী শিক্ষার্থী রয়েছেন।

সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও সাংস্কৃতিক চর্চা

কারমাইকেল কলেজের মূল ভবনের পূর্বদিকে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য। দক্ষিণে শহীদ মিনার, তিনতলা বিজ্ঞান ভবন বা সেকেন্ড বিল্ডিং, তিনতলা কলা ও বাণিজ্য ভবন বা থার্ড বিল্ডিং, দ্বিতল রসায়ন ভবন এবং বিভিন্ন ফুলে সজ্জিত বাগান রয়েছে।

কলেজের লাইব্রেরিতে রয়েছে প্রায় ৯০ হাজার বইয়ের বিশাল সংগ্রহ। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে রংপুর জেলা গ্রন্থাগার থেকে ২৫০টি বই নিয়ে এ লাইব্রেরির যাত্রা শুরু হয়েছিল। একসময় বাংলার বাইরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও শিক্ষার্থীরা এ কলেজে পড়তে আসতেন। লাইব্রেরিতে অসমীয় ভাষার বইও রয়েছে।

মূল ভবনের মাঝখানে রয়েছে ‘আনন্দ মোহন হল’। উত্তর-পশ্চিম কোণে রয়েছে উন্মুক্ত মঞ্চ ‘বাংলা মঞ্চ’, যা কলেজের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র।

এ ছাড়া কলেজ ক্যাম্পাসে রয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কারমাইকেল কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে নির্মিত শিক্ষক-কর্মচারীদের কয়েকটি আবাসিক ভবন।

আবাসিক সংকট প্রকট

দীর্ঘ সময় ধরে অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ হলেও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর তুলনায় আবাসিক সুবিধা এখনও অপ্রতুল। কলেজে বর্তমানে শিক্ষার্থী প্রায় ৩০ হাজার। তাঁদের জন্য সাতটি আবাসিক হলে আসন রয়েছে মাত্র প্রায় এক হাজার।

ছেলেদের আবাসিক হলগুলোর মধ্যে রয়েছে জিএল হল (গোবিন্দ লাল হল), সিএম হল (কারমাইকেল মুসলিম হল), কেবি হল (কাশিমবাজার হল)-সহ অন্যান্য হল। এর মধ্যে শতবর্ষী দুটি হল দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে থাকতে হচ্ছে। অপরদিকে ওসমানী ছাত্রাবাস সংস্কারের অভাবে বর্তমানে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

তবে নতুন করে শহীদ আবু সাঈদ নামে ১০ তলা একটি হল নির্মাণ করা হয়েছে। ছাত্রীদের জন্য রয়েছে তাপসী রাবেয়া হল, বেগম রোকেয়া হল ও জাহানারা ইমাম হল। শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ রংপুরের বাইরে বিভিন্ন জেলা থেকে এসে পড়াশোনা করেন। আবাসিক সংকটের কারণে তাদের অনেককেই বেসরকারি মেসে থেকে পড়াশোনা করতে হচ্ছে।

অধ্যক্ষ যা বললেন

কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন মণ্ডল নিজেও এ কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী। নিজের প্রতিষ্ঠানেই অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পেরে গর্বিত তিনি। অধ্যক্ষ বলেন, ‘সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। কখনও ভাবিনি এখানেই অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবো।’

কলেজের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শিক্ষক সংকট আছে। আছে ক্লাসরুম সংকট। শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট প্রকট। আরও অন্তত ছেলেদের তিনটি এবং মেয়েদের তিনটি করে আবাসিক হল নির্মাণ করা দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ছাড়া নানান সমস্যা আছে, যা সমাধান করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

শিক্ষা, স্থাপত্য ও ইতিহাস—তিনের সমন্বয়ে কারমাইকেল কলেজ আজ শুধু রংপুরের নয়, বাংলাদেশের শিক্ষার ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। শতবর্ষী মূল ভবন ও সুবিশাল সবুজ ক্যাম্পাস যেমন দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে, তেমনি এখান থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হওয়া কৃতী শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানটির সুনাম আরও সমৃদ্ধ করেছেন। তবে এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ ও আবাসন সংকট সমাধান করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।