পুলিশের পিটুনিতে যুবক নিহত : রংপুরে বিক্ষোভ ও হরতাল কর্মসূচি পালন

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর এলাকায় পুলিশের পিটুনিতে যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় বিক্ষোভ ও হরতাল কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী। গত শনিবার রাতে ওই এলাকার গণি মার্কেটের কাছে পুলিশের বিরুদ্ধে আজিজুল হক নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে।

রবিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এ বিক্ষোভ ও হরতাল কর্মসূচি পালন করা হয়।

হারাগাছে হরতাল কর্মসূচি পালন

এলাকাবাসীর দাবিতে ঘটনা তদন্তে পুলিশ সুপার রশিদুল হককে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন রংপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আব্দুস সালাম ও রংপুরের পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক।

রবিবার বিকেল পর্যন্ত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু না করলেও দ্রুত তা শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আব্দুস সালাম।

এদিকে নিহত আজিজুলের লাশ ময়না তদন্তের জন্য রবিবার বিকেলে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল হিমঘর থেকে মর্গে নেওয়া হয়। ময়না তদন্ত শেষে বিকেল সোয়া ৫টায় পুলিশী পাহারায় লাশ নিহতের বাড়ি নেওয়া হয়। এ সময় নিহতের ভাই মমতাজ হারাগাছ পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এসআই মামুনকে দায়ী করে তার গ্রেফতারের দাবি জানান।

গত শনিবার (১৬ এপ্রিল) ওই এলাকার গনি মার্কেটে একটি ক্লাবে বসে আইপিএল দেখছিলেন আজিজুল। রাত সাড়ে ৭টার দিকে হারাগাছ পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এসআই মামুনের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ এসে তাদের চিৎকার করতে নিষেধ করেন। কথাকাটাকাটির এ পর্যায়ে তাদের উপর হামলা ও লাঠি চার্জ করে পুলিশ। এ সময় আজিজুল দৌড়ে পালানোর সময় মাটিয়ে পড়ে গেলে পুলিশ তাকে মারধর করে। পরে আজিজুল জ্ঞান হারিয়ে ফেললে এলাকাবাসী তাকে প্রথমে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আজিজুল হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হলেও নিহতের স্বজনরাদের অভিযোগ তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে আজিজুল নিহত হওয়ার খবরে হারাগাছে শনিবার রাতেই সড়ক অবরোধ করে রাস্তায় আগুন জালিয়ে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী। এ সময় পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টয়া ধাওয়া সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁক গুলি ও টিয়ার  গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে ২০ জন আহত হয়।

আরও পড়ুন: বাঘায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলার একজন জেলহাজতে

এ বিষয়ে রংপুরের পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় এসআই মামুনকে ক্লোজ করা হয়েছে বলেও জানান আব্দুর রাজ্জাক।

কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাদের জিলানী বলেন, এখনও পর্যন্ত ওই ঘটনায় কোনও মামলা হয়নি।

/এসএনএইচ/

আপ: এইচকে