রংপুরে এনসিপির দুরবস্থা, কার্যক্রম নেই মহানগরে

বিভাগীয় নগরী রংপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কোনও কার্যক্রম নেই। মহানগর নেতাদের গ্রুপিং, নিজেদের বড় নেতা হিসেবে প্রচার, প্রভাব দেখানো, মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়নসহ নানান কারণে জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা দলটি এখন রংপুরে হাতেগোনা কয়েক নেতার দলে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর নানান তথ্য। জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভাগীয় নগরী রংপুরে নেই কোনও দলীয় কার্যালয়। দীর্ঘ দিনেও গঠন করতে পারেনি পূর্ণাঙ্গ কমিটি। কেন্দ্র ঘোষিত দলীয়  কর্মসূচি পালন করা হয় মাঝেমধ্যে। তাও তাদের ঠিকানা হয় প্রেসক্লাব চত্বর না হয় জুলাই মঞ্চ এলাকা।

ক্যামেরার সামনে কথা বলতে না চাওয়া একাধিক এনসপি সমর্থক বললেন, বাতিল হওয়া কমিটির আহ্বায়ক আর সদস্য সচিবের নামই জানেন না নগরীর সাধারণ মানুষ। 

এদিকে দলের ভয়াবহ দুরাবস্থা, দলীয় কর্মকাণ্ডে স্থবিরতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে সম্প্রতি রংপুর মহানগর জাতীয় নাগরিক পার্টির কমিটি বাতিল করা হয়েছে। প্রায় মাস খানেক ধরে কমিটিবিহীন অবস্থায় রংপুরে এখন। ফলে দলীয় কর্মকাণ্ডে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে রংপুরের একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক বাছিত আলী জানান, এনসিপি নামক দলটি একসময় জাসদের মতো অবস্থা হতে পারে। কারণ জুলাই আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে নেতৃত্বে দেওয়া দলটি রংপুরে কখনও পরিপূর্ণ কমিটি উপহার দিতে পারেনি। যাদের কমিটি রাখা হয়েছিল, মূল নেতৃত্ব যাদের ওপর ছিল- সাধারণ মানুষের কাছে তাদের ন্যূনতম গ্রহণযোগ্যতা ছিল না। বেশির ভগ মানুষ তাদের নাম পর্যন্ত জানে না। 

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিকভাবে রংপুর হচ্ছে সমৃদ্ধ। এখানে গত ২ বছরে জুলাই আন্দোলনে সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। এ ছাড়াও নানান কারণে দলটির কর্মকাণ্ড এখন কেন জানি গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছে। তবে এখনও সময় আছে, দলের সৎ ও নিবেদিত প্রাণ নেতাকর্মীদের স্থান দিয়ে দলকে দাঁড় করানো গেলে রংপুরে এনসিপি দাঁড়াতে পারে বলে তার বিশ্বাস।

এদিকে দীর্ঘ দুই বছরেও রংপুর মহানগরের ৬টি থানায় কোনও কমিটি গঠন করতে পারেনি দায়িত্বে থাকা নেতারা। এ বিষয়ে এনসিপি কর্মী সাগর জানান, রংপুর মহানগর কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়নি। সেখানে মহানগরীর ৬টি থানার অবস্থা তো আরও খারাপ। তবে দলকে শক্তিশালী করতে হলে তৃণমূল পর্যায় থেকে ঢেলে সাজাতে হবে।

অপরদিকে বাতিল হওয়া মহানগর এনসিপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শান্তি কাদেরী বলেন, দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন, দলীয় কার্যালয় স্থাপন করতে না পারাসহ বিভিন্ন কারণে সমস্যা হয়েছে। তবে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নয়া মহানগর কমিটি গঠন করা হবে।

অন্যদিকে দলটির রংপুর মহানগরের সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল মালেক স্বীকার করলেন রংপুর মহানগরে দলের কর্মকাণ্ডে স্থবিরতার কথা। তবে কমিটি বাতিলের কারণ হিসেবে বলেন, কমিটির মেয়াদ ছিল ৬ মাস। তাই বাতিল করা হয়েছে হয়েছে।

তবে যুবদলের রংপুর মহানগরীর সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম নয়ন বলেন, রংপুরে এনসিপির কোনও কর্মকাণ্ড নেই। তাদের অস্তিত্বই নেই, যা আছে কাগজকলমে। এ ছাড়াও দলটির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক নানান অভিযোগও করলেন তিনি।

সার্বিকভাবে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দাবি, এবার যোগ্য ও প্রতিভাবান ব্যক্তিদের নিয়ে মহানগর নাগরিক কমিটি গঠন করা হবে।