মাসুদ খান জগদীশপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক জাহেদ খানের ছেলে।
চা বাগানের শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, বালু উত্তোলনের ফলে এলাকার সব রাস্তাঘাট এখন জমিতে পরিণত হয়েছে। ফলে চা পাতা নিয়ে নারী শ্রমিকদের আসা -যাওয়া করতে ভুগান্তি পোহাতে হচ্ছে। রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়ার তাদের সন্তানরা স্কুল-কলেজে আসতে পারছে না। কিন্ত মাসুদ খানের ভয়ে তারা প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।
বাগানের চা শ্রমিক দিতি সাঁওতাল বলেন, ‘অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে আমাদের বাগান থেকে চা পাতা নিয়ে আসতে কষ্ট হয়। কিন্তু তাদের ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারছি না। নিরবেই সহ্য করতে হচ্ছে তাদের অত্যাচার।’
বাগানের শ্রমিক রবি দাস বলেন, প্রতিদিন অবৈধভাবে শতশত টাক দিয়ে বালু পাচার করা হচ্ছে। কিন্তু বাগানের শ্রমিকরা তা জেনেও প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। প্রতিবাদ করলেই আমাদের উপর অত্যাচার নেমে আসে।’
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক নিপেল পাল বলেন, তারা (বালু উত্তোলনকারীরা) দাবি করে বাগান থেকে বালু উত্তোলনের জন্য টাকা দিয়ে ক্রয় করেছে। আসলে কী জানি না। তবে আমাদের রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু তারা কোনও কর্ণপাত করেনি।’
তিনি বলেন, বালু উত্তোলনের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে।
বালু উত্তোলনকারী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাসুদ খানের ম্যানেজার দিরেশ ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা প্রশাসন থেকে সাবলিজ নিয়ে বালু উত্তোলন করছি।’ এজন্য সব ধরনের কাগজপত্র রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বালু উত্তোলনকারী প্রভাবশালী নেতা মাসুদ খান বলেন, আমরা বালু উত্তোলনের জন্য বাগান ম্যানেজারকে দুই কোটি টাকা দিয়েছি। সেই হিসেবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তবে কোনও পাহাড় কাটা হয়নি।
হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রোকন উদ্দিন জানান, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে হাইকোর্ট থেকে সিলিকা বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যে কারণে কেউ বালু উত্তোলন করতে পারবে না। তিনি জানান, প্রশাসনের নিষেধ অম্যান্য করে বালু উত্তোলন করায় বৈকুণ্ঠপুর বাগানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার বালু জব্দ করা হয়েছে। এরপর যদি কেউ বালু উত্তোলন করে তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:
এমপির ছেলে রুমনের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর
/বিটি/