এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি প্রবাসী প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ভিন্ন মাত্রা এসেছে। সেই সঙ্গে চলছে রাজনৈতিক সমীকরণ। একই সঙ্গে ভোটাররাও করছেন হিসেব-নিকেশ। তবে এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রার্থীরাই তরুণ।
ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন
উপজেলা সদরে অবস্থিত ১নং ইউনিয়ন পরিষদ হলো ফেঞ্চুগঞ্জ। এই ইউনিয়নের জনসংখ্যা ২৪ হাজার ৯৪৮। ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৪ হাজার ৭৮৩ জন। এই ইউনিয়নে ২০০৩ সালের ১ মার্চ সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মামলা সংক্রান্ত জটিলতা অবসানের পর আগামী ২৯ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন চার জন। তারা হলেন- উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মাসার আহমদ শাহ (নৌকা), উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা, বর্তমান চেয়ারম্যান মো. জাহিরুল ইসলাম মুরাদ (ধানের শীষ), প্রবাসী জাতীয় পার্টির নেতা শেখ মোরশেদ আহমদ (লাঙল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. বদরুদ্দোজা (আনারস)। সংরক্ষিত নারী সদস্যপদে ১২ জন, ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৫৭ জন প্রার্থী নির্বাচনি লড়াইয়ে নেমেছেন। ভোটারদের ধারণা, সদর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী বদরুদ্দোজা, বিএনপির জাহিরুল ইসলাম মুরাদ ও আওয়ামী লীগের মাসারের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।
মাইজগাঁও ইউনিয়ন
উপজেলার সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা অধ্যুষিত ইউনিয়ন মাইজগাঁও। ৩৯ হাজার ৯৩২ জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই ইউনিয়নের মোট ভোটার ১৯ হাজার ১৯২ জন। নির্বাচনে চেয়ারম্যানপদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন- উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা জুবেদ আজমদ চৌধুরী শিপু (নৌকা), উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক চেয়ারম্যান সুফিয়ানুল করিম চৌধুরী (ধানের শীষ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ইমরান আহমদ চৌধুরী (আনারস)। ইউনিয়নে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১০ জন ও ৯ ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য পদে ৩৪ জন প্রার্থী হয়েছেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী জুবেদ আজমদ চৌধুরী শিপু বলেন, ‘এই ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা। তাই এখানে ভোটারদের প্রত্যাশা অনেক। আশা করছি, ভোটাররা এবার আমাকে তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।’
ঘিলাছড়া ইউনিয়ন
ঘিলাছড়া ইউনিয়নে মোট জনসংখ্যা ৩২ হাজার ৫৫৯। ইউনিয়নের ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ৬৩৭ জন। ঘিলাছড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা লেইছ চৌধুরী (নৌকা), সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা মো. আফতাব আলী (ধানের শীষ) ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফ চৌধুরী। সংরক্ষিত নারী সদস্যপদে ৯ জন ও ৯ ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য পদে ৫০ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
ঘিলাছড়া ইউয়িনের ভোটার সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রকিব চৌধুরী অভিযোগ করেন, ‘ক্ষমতাশীন দলের নেতারা জোর করে কেন্দ্র দখল করার পায়তারা চালিয়ে আসছেন। আমরা চাই সবার অংশগ্রহণে একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হউক। যাতে ভোটাররা আরও উৎসাহিত হয়।’
উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়ন
২০১১ সালে উত্তর কুশিয়ারা ও উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ নামে দুটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। ৪নং উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা ২০ হাজার ৫৬৩ জন। ভোটার সংখ্যা ১২ হাজার ৩২৭। নবগঠিত এই ইউনিয়নের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- যুক্তরাজ্য প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা লুদু মিয়া (নৌকা), জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহমদ জিলু (ধানের শীষ), সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমান (আনারস), যুক্তরাজ্য প্রবাসী মনির আলী (মোটরসাইকেল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আফতার আলী (ঘোড়া) ও শ্রমিক নেতা মো. বসারত আলী (অটোরিকশা)। সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১০ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৪৬ জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন।
বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহমদ জিলু বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ রয়েছে। যথাযথভাবে যদি ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয় তাহলে আমি আশাবাদী বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো।’
এ ইউনিয়নের নতুন ভোটার ব্যবসায়ী দিনার আহমদ বলেন, ‘অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ভোট দেবো তরুণ প্রার্থীকে। পরবির্তন চাই এলাকার উন্নয়নে। ইউনিয়ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নের সর্বত্র উৎসবের আমেজ বইছে।’
উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন
নবগঠিত ৫নং উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের জনসংখ্যা ২০ হাজার। মোট ভোটার সংখ্যা ৯ হাজার ৬৫৩ জন। উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া এই ইউনিয়নে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৯ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৪১ জন নির্বাচনি লড়াইয়ে মাঠে রয়েছেন। চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীরা হলেন- সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা এপিপি জসীম উদ্দিন আহমদ (নৌকা), উপজেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ এমরান উদ্দিন (ধানের শীষ), স্বতস্ব প্রার্থী আতিকুর রহমান মিটু (ঘোড়া), মো. আব্দুল ওয়াদুদ (আনারস) ও সত্য কুমার বিশ্বাস (মোটরসাইকেল)।
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার বিমেলেন্দু পাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রায় ১৫ বছর পর আইনি লড়াই শেষে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় ইউনিয়ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যার কারণে এখানে উৎসবের মাত্রাটা বেশি। পাশাপাশি নতুন ভোটাররাও উচ্ছ্বসিত। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একাধিবকার পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে। নির্বাচনের আগ মুহূর্তের ঢেলে সাজানো হবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।’